
শেষ আপডেট: 13 July 2023 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবারের পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলে বিজেপি সরকারি ভাবে দ্বিতীয় হয়েছে। কিন্তু তা হলেও রাজ্য রাজনীতিতে এই আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে যে বিরোধী পরিসরে বিজেপির আর একচেটিয়া আধিপত্য নেই। বাম-কংগ্রেস জোটের ফলাফলই তার প্রমাণ। শুধু তা নয়, পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির ভোট শতাংশ কমে যাওয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)বুধবারই দাবি করেছেন, “এবারের পঞ্চায়েতে বাম-কংগ্রেসের ভোট ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশ হয়েছে, বিজেপির ভোট ৩৮ শতাশ থেকে কমে ২২ শতাংশ হয়েছে এবং তৃণমূলের ৫ শতাংশ ভোট কমেছে। তাই আসল বিরোধী শক্তি আমরাই”।
বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। জবাবে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, “এটা ঠিক যে বামেরা এখনও রয়েছে তার প্রমাণ দিতে পেরেছে এই ভোটে।” তবে বামেরা অন্যতম বিরোধী শক্তি হয়ে উঠেছে, তা মানতে নারাজ দিলীপ। পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “যতই ওরা গায়ের জোরে বলুন, কিন্তু বামেরা কটা আসন পেয়েছে? কত প্রার্থী দিয়েছিল?” তাঁর কথায়, “রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কে, সেটা তো মানুষ ঠিক করবে। তিনবার সব ভোটে মানুষ ওদের হারিয়েছে। এখন অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াই করছে”।
২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাংলায় বাম-কংগ্রেস জোট ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। একুশ সালে বিজেপি আবার ৩৮ শতাংশ ভোট পায়। তাতে মনে করা হয়েছিল, তৃণমূল বিরোধী ভোটের মেরুকরণ ঘটেছে বিজেপির দিকে। কিন্তু এবার পঞ্চায়েত ভোট গেরুয়া শিবিরের ১৬ শতাংশ ভোট কমে যাওয়া তাঁদের একাংশ নেতা উদ্বেগে রয়েছেন বলেই খবর।
সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর উদ্দেশে দলের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন দিলীপ ঘনিষ্ঠরা। গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ আসনে প্রার্থী দিতে পারলেও সাফল্যের হার আঠারো সালের তুলনায় কম কেন সেই প্রশ্নও উঠছে। অনেকের মতে, দিলীপবাবু যেভাবে বলেছেন যে, ‘বাংলার প্রধান বিরোধী শক্তি কে, সেটা মানুষ ঠিক করবে’—তাতেই পরিষ্কার যে বাম-কংগ্রেস শিবির ক্রমশ জমি উদ্ধার করায় তাঁরা উৎকন্ঠায় রয়েছেন।
তবে সুকান্ত-শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নেতাদের মতে, পঞ্চায়েত ভোট দিয়ে বিরোধী পরিসরের অঙ্ক বিচার করলে ভুল হবে। বামেদের ভোট শতাংশ হাতে গুণে তিনটি জেলায় বেড়েছে। গোটা বাংলায় জুড়ে সমবন্টন নেই। তা ছাড়া লোকসভা ভোটের আঙ্গিক থাকবে ভিন্ন। সুতরাং এই ফলাফল দেখে ভোট ভাগাভাগি নিয়ে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তাছাড়া ভোট ভাগাভাগি মূলত হচ্ছে সংখ্যালঘু এলাকায়। যেমন, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাচ্ছে বাম-কংগ্রেস। এতে বিজেপির ভাল বই মন্দ হচ্ছে না।”
আরও পড়ুন: বাংলা থেকে বিজেপির প্রথম রাজ্যসভার প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রাস করল ‘বাংলা ভাগ’ বিতর্ক