
শেষ আপডেট: 16 December 2022 08:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচার মামলায় (Cow smuggling Case) বিশেষ সিবিআই আদালতে একাধিকবার অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। তারপর হাইকোর্টে (High Court) আর্জি জানিয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে রেহাই মিলল না বীরভূমের তৃণমূল সভাপতির। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অনুব্রত মণ্ডল বেশ প্রভাবশালী। তাই তাঁকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।
জামিনের জন্য আকুল হওয়া কেষ্ট নিজের আইনজীবী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিব্বলকে। কিন্তু কপিলও সওয়াল জবাব করে অনুব্রতর জামিন করাতে পারলেন না।
কপিলের যুক্তি ছিল, গরুপাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত এনামুল হক সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমারও জামিন পেয়েছেন এই মামলায়। তাহলে চার মাস ধরে অনুব্রতকে আটকে রাখা কেন? তাঁকেও জামিন দেওয়া হোক। সেইসঙ্গে সিবিআইয়ের এফআইআর খারিজ করারও আর্জি জানান অনুব্রতর আইনজীবী।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট করেই বলে, অন্যদের তুলনায় অনুব্রত মণ্ডল অনেক বেশি প্রভাবশালী। তাছাড়া এই মামলায় বিচারক হুমকি পেয়েছেন। হাইকোর্টকে তা ভুলে গেলে চলবে না। বিচারপতি বাগচীর বেঞ্চ এও বলে, সিবিআই জানিয়েছে, গরুপাচার মামলায় অন্যতম এক সাক্ষী নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছেন। সুতরাং বাকিদের সঙ্গে অনুব্রতর তুলনা চলে না।
প্রসঙ্গত, সারদা মামলার সময়ে এই কপিল সিব্বলই মদন মিত্রের হয়ে প্রথম দিকে দাঁড়িয়ে তাঁর জামিন করাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেইসময়েও আদালত বলেছিল, মদন প্রভাবশালী। পরে অবশ্য মদন জামিন পেয়েছিলেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ফের অনুব্রতর জামিন মামলার শুনানি হবে হাইকোর্টে।
অনুব্রত এখনও তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি। তাঁর জেলায় গিয়ে জেলবন্দি অনুব্রতকে বাঘ আখ্যা দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদের সেই বক্তব্য উদ্ধৃত করেই অনুব্রতর জামিনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালত। এখন দেখার পরের শুনানিতে অনুব্রতর রেহাই মেলে কিনা।