দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিপিএমের একা রাজত্ব করার কালচারকে বিজেপি ফিরিয়ে আনতে চলছে বলে গড়বেতার সভায় তোপ দাগলেন রাজ্যের পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার গড়বেতার ধাদিকা স্কুল মাঠে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় গিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, "১৬টি আদিবাসী গ্রামে ভাঙচুর চালিয়েছিল বিজেপি-র ঝাণ্ডা হাতে সিপিএমের লোকেরা। সিপিএমের যে কালচার, আমি একা থাকব আর কোনও দল থাকবে না, এখন বিজেপি সেটাই করতে চাইছে।"
কয়েক দিন আগেই এই জায়গায় সভা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলে এসেছিলেন, "শুভেন্দু অধিকারী সভা করতে এলে দোকান বাজার বন্ধ থাকবে। সভাতে লোক হবে না।" এ দিন শুভেন্দুর সভাতে.জমায়েত ছিল নজর কাড়া। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়েই নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, "ঘর ছাড়া মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদরা হয় না। ঘর ছাড়া হয় গরিব মানুষ।" হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, "এ সব আমাদের দেখিয়ে লাভ নেই।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কাজের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যখন এখানে মানুষের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করছে তখন কেন্দ্রীয় সরকার ট্রেনের পিছনে একটা একটা বগি লাগাতে পারছে না।"
লোকসভা ভোটে এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে পায়ের তলায় মাটি সরে গিয়েছে তৃণমূলের। তার বড় কারণ হিসাবে শাসক দলের নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় ভাবে মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু নেই, তাঁদের আচরণ, চলন বলনেও মানুষ ক্ষুব্ধ।

গত ৯ জুন গড়বেতা অডিটোরিয়ামে দলের পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘‘গড়বেতায় বেআইনি বালি খাদান বন্ধ করতেই হবে, যেহেতু শাসকদল তৃণমূল সেহেতু আমাদেরই উদ্যোগ নিয়ে বন্ধ করতে হবে।’’ গড়বেতার ফল আশানুরূপ হয়নি কেন তাও কর্মীদের থেকে সে দিন শুনতে চান পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী।
পরে দলীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, ‘‘মানুষকে সংগঠিত করুন, মানুষকে নিয়েই গড়বেতা পুনরুদ্ধার সম্ভব।’’ তা ছাড়া কর্মীদের তিনি এও বলে এসেছিলেন, ‘‘আপনারা যে কোনও এলাকায় জনসংযোগ যাত্রার কর্মসূচি ঠিক করুন, আমি আসব।’’ সেই মোতাবেক বৃহস্পতিবার গড়বেতায় গিয়েছিলেন শুভেন্দু।
এ দিন বাঁকুড়া শহরেও জনসংযোগ যাত্রা করেন পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ভোট বিপর্যয়ের পর দলে শুভেন্দুর দায়িত্ব বেড়েছে। তিনি চষে বেড়াচ্ছেন জেলায় জেলায়। ঝাড়গ্রাম থেকে জলপাইগুড়ি, খণ্ডঘোষ থেকে গড়বেতা। এ দিনও তার অন্যথা হল না। শাসক দলের একাধিক শীর্ষ নেতার নড়াচড়া যখন প্রায় চোখেই পড়ছে না, তখন শুভেন্দু ছুটে বেড়াচ্ছেন এ জেলা থেকে সে জেলা।