
শেষ আপডেট: 6 June 2023 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বাড়ি ফেরার কথা ছিল পুজোর সময়। কিন্তু আর কোনও পুজোই দেখা হল না তাঁর। তামিলনাড়ুর উদ্দেশে যাত্রাই হল শেষ যাত্রা। মঙ্গলবার ময়নাগুড়ির বাড়িতে ফিরল তরুণ রায়ের কফিনবন্দি দেহ। তিনি করমণ্ডল এক্সপ্রেসে কাজের খোঁজে তামিলনাড়ুর দিকে যাচ্ছিলেন।
জেলা প্রশাসন তরুণবাবুর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেয়। কফিনবন্দি দেহ পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। আত্মীয়রা জানান, তরুণ প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে গাড়ি চালাতেন। কর্ণাটক, কেরলেও কাজ করেছেন, এবার ছোট বোনের বিয়ে দেওয়ার জন্য তামিলনাড়ুতে কাজে যাচ্ছিলেন। একটি ঠিকাদারি সংস্থার মাধ্যমে কাজে পেয়েছিলেন। করমণ্ডল এক্সপ্রেসে তরুণের সঙ্গে একই কামরায় ছিলেন শৈলেন রায়। দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শৈলেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মা সুমিত্রা রায়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তরুণের কাকা মোহন রায় কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিল তরুণ। ড্রাইভারি করে বড় বোনকে বিয়ে দিয়েছে। ছোট বোনের বিয়ে দেওয়ার জন্য ভালো রোজগারের আশায় ভিনদেশে যাচ্ছিল। কী থেকে কী হয়ে গেল। কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছিনা।'
তবে এই দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এখন ভাবিয়ে তুলেছে এলাকার শ্রমিকদের। শশাঙ্ক বর্মন, ভুপাল ব্যাধের মতো স্থানীয় যুবকরা জানাচ্ছেন, এখানে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকায় কাজ করতে হয়। এখানে বড় কলকারখানা নেই। বড় কাজ নেই। তাই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল তাঁকে। যদি এখানে কাজ থাকতো তবে তরুণকে এভাবে মরতে হতো না।
নাগরাকাটায় পৌঁছল ১৯ বছরের শ্রমিকের দেহ, অনটন মেটাতে বেঙ্গালুরু যাচ্ছিলেন