
শেষ আপডেট: 16 May 2023 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির (Teacher Recruitment Corruption) খবর প্রথম স্পটলাইটে এসেছিল যেসব মামলার ভিত্তিতে, তার মধ্যে ববিতা সরকারের (Babita Sarkar) করা মামলা ছিল অন্যতম। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরির বিরুদ্ধে লড়াই করে সেই চাকরি পেয়েছিলেন ববিতা সরকার। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) নির্দেশেই সেই চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরে সেই ববিতার চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। এবার সেই চাকরিই বাতিলের (Removed from Job) নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
বিচারপতি এদিন শুধু ববিতার চাকরি বাতিল করেননি, সেই চাকরি কে পাবেন সেটাও জানিয়ে দেন তিনি। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'ববিতা সরকারকে চাকরিতে বহাল রাখা উচিত নয়। কারণ তিনি স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেননি।
অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিলের সময় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Ganguly) নির্দেশ দিয়েছিলেন, চাকরিকাল যাবৎ অঙ্কিতা যে বেতন পেয়েছেন সেটা ফেরত দিতে হবে। সেই টাকা পাবেন ববিতা (Babita Sarkar)। কিন্তু যখন ববিতার চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, ববিতাকে প্রাপ্য টাকা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা রাখতে হবে।
ববিতার চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তোলেন শিলিগুড়ির মেয়ে অনামিকা রায় (Anamika Roy)। মঙ্গলবার, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ববিতার চাকরি দিতে হবে অনামিকাকে। পাশাপাশি স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষিকা হিসাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে বাড়ির কাছের স্কুলে অনামিকাকে নিয়োগ দিতে হবে।
পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতার চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তোলেন ববিতা। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে বেশ কয়েক মাস এই মামলা চলে। ববিতার অভিযোগ ছিল, মেধা তালিকায় অনেক পিছনে থাকা অঙ্কিতার নাম সামনে চলে আসায় যোগ্যতা না থেকেও চাকরি পেয়ে যান। তাতে যোগ্য প্রার্থী হয়েও বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
এরপর এই মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কিতার জায়গায় 'যোগ্য' প্রার্থী হিসেবে ববিতাকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু চাকরি পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই সেই চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। অনামিকা অভিযোগ করেন, এসএসসির কাছে চাকরির আবেদন করার সময় ববিতার স্নাতক স্তরের নম্বর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। যার ফলে তাঁর অ্যাকাডেমি স্কোর বেড়ে গিয়েছিল। অনামিকা ও ববিতা দু'জনেই ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন। দু'জনেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছিলেন। অনামিকা মতো ববিতাও থাকতেন শিলিগুড়িতেই।
সেই অনামিকার আবেদনে মামলা চলছিল বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। মঙ্গলবার তিনি ববিতার চাকরি বাতিল করে অনামিকাকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বলেন, ববিতা সরকারকে বেতন বাবদ প্রাপ্ত ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হবে। তার মধ্যে ১১ লাখ টাকা ১৯ মে-এর মধ্যে এবং বাকিটা ৬ জুনের মধ্যে সুদ-সহ ফেরত দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে। পরে দুই দফায় সেই টাকা অনামিকা পাবেন।
কর্নাটকে কংগ্রেসের ঢালাও প্রতিশ্রুতি, মেটাতে খরচ ৬২ হাজার কোটি! দেবে কোন গৌরী সেন?