দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুকুরের পাল্টা বেড়াল!
দু’দিন আগেই কেশপুরের আনন্দপুরে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। আনন্দপুরের গ্রামে ভারতী পৌঁছতেই, বিজেপি কর্মীরা দেখান ওই যে দিদি, ওই যে! ওরা মেরেছে! তারপরেই ভারতী নিজের মূর্তি ধরে ফেলেন। দাওয়ায় বসে থাকা দুই তৃণমূলকর্মীকে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “উত্তরপ্রদেশ থেকে এক হাজার ছেলে ঢোকাব। বাড়ি থেকে বার করে কুকুরের মতো মারব। কিচ্ছু করতে পারবি না।” আটচল্লিশ ঘণ্টাও কাটল না। ভারতী ঘোষকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।
তাঁর জেলায় ভোট হয়ে গিয়েছে। ঝাড়া হাত-পা। তাই দলের তরফে কেষ্টবাবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিষ্ণুপুর আসনটা একটু দেখভাল করার জন্য। সোমবার যখন রাজ্যের সাত কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে, তখন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরার সমর্থনে জনসভা করতে গিয়েছিলেন ভোটের ময়দানে নকুলদানাকে টেনে আনার কারিগর। সেই সভা থেকেই অনুব্রত বলেন, “ঘাটালে কী বলছে বিজেপি-র প্রার্থী? বলছে ইউপি থেকে লোক ঢোকাবে। আর ঘাটালের মানুষ যেন চুপ করে বসে থাকবে!” এরপরই অনুব্রত বলেন, “ভারতী ঘোষ...তুমি তৃণমূলকে কুত্তার মতো মারবে? অত সস্তা নয়। তুমি কুত্তার মতো মারলে, তোমাকে বেড়ালের মতো মারবে।”
এখানেই থামেননি অনুব্রত। ভোটের দিন কমিশনের নজরবন্দি হয়ে দিন কেটেছিল তাঁর। তবু মেজাজ এখনও তেমনই। এ দিন বিষ্ণুপুরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদ্দেশে ফের আক্রমণ শানালেন কেষ্ট। বললেন, “ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্যালুট করবেন। ওঁদের কাজ বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে ভোট করানো। বুথের ভেতর ঢুকবেন না। ভিতরে ঢুকলে কর্মীরা ছাড়বে না'
ভারতী-অনুব্রতর এই কাজিয়া শুনে, রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই বক্তব্য, বাংলার রাজনীতিতে ভাষা সন্ত্রাস আর কোথায় গিয়ে নামবে কে জানে ভোটের প্রচার তো কলতলার ঝগড়ায় পরিণত হয়েছে।