দ্য ওয়াল ব্যুরো : ন্যাচরাল কোকোনাট শেল কাপ। জিনিসটা আর কিছু নয়, নারকেলের মালা। নারকেলের শাঁস বার করে মালাটি ফেলে দেওয়াই নিয়ম আমাদের দেশে। এখানে একটি আস্ত নারকেল বিক্রি হয় ৪০ টাকায়। কিন্তু অ্যামাজনে সেই নারকেলের মালা বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়। ক্রেতাকে বলা হয়েছে, একেবারে যদি দাম না দিতে পারেন, ইএমআইতে দিন। সেই সঙ্গে বলে দেওয়া হয়েছে, যেহেতু নারকেলের মালা ‘ন্যাচরাল প্রোডাক্ট’, তাই তাতে ফাটা থাকতে পারে। অন্যান্য খুঁতও থাকতে পারে। তা নিয়ে পরে অভিযোগ করা চলবে না।
ইন্টারনেটে কখন কোন বস্তু ভালো বিকোবে, আগে থেকে বলতে পারে না কেউ। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খুব সামান্য জিনিসই রীতিমতো প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেছে নানা সেলিব্রিটি পণ্যকে। এর আগে নেটে ডিমও বিক্রি হয়েছিল ব্যাপক দামে। তবে নারকেলের মালা এত দামে বিক্রি হতে পারে, তাতেও ইএমআইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে, একথা ভাবতে পারেননি কেউ।
সেঞ্চুরি নভেলটি নামে এক সংস্থা নারকেলের মালা বিক্রি করছে। তারা বলেছে, প্রথমে ১৩৬৫ টাকা দিলেই পণ্যটি ডেলিভারি দেওয়া হবে। পরে দফায় দফায় দাম মেটালেও চলবে।
কেন নারকেলের মালার এত দাম?
মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কোনও পণ্যের জন্য বেশি দাম চাইতে হলে তাকে ন্যাচরাল, অর্গানিক, বিশুদ্ধ ইত্যাদি বলে দাবি করতে হবে। ক্রেতার মনে বিশ্বাস জন্মিয়ে দিতে হবে, পৃথিবীর খুব কম লোকের কাছেই এই জিনিসটি আছে। কেউ যদি পণ্যটি সংগ্রহ করেন, তা হলে তিনি হবেন সেই বিরল সৌভাগ্যবানদের একজন যাঁর কাছে অমন এক ‘রেয়ার পজেশান’ আছে।
নারকেলের মালা নিয়ে কী করবেন ক্রেতা?
বিক্রেতারা বলেছে, ওই বস্তুটি ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে লুয়াও পার্টি। কাকে বলে লুয়াও পার্টি। তা একপ্রকার হাওয়াইয়ান পার্টি। সেই পার্টিতে কেবল প্রাকৃতিক পণ্য দিয়ে ঘর সাজাতে হয়। যারা লুয়াও পার্টির আয়োজন করবেন, তাঁরা নারকেলের মালাকে কাপ হিসাবে ব্যবহার করবেন।
এর আগে আর একটি পণ্য নিয়ে ইন্টারনেটে ঝড় উঠেছিল। জিনিসটি আর কিছুই নয়, খাটিয়া। যা চারপাই নামেও পরিচিত। আগে গ্রামের দিকে ওই বস্তুটির যথেষ্ট ব্যবহার ছিল। তার এক বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছিল নেটে। দাম চাওয়া হয়েছিল ৯৯০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বিজ্ঞাপন দাতারা বলেছিলেন, ভারতীয়রা দিনের বেলায় চারপাইতে বসেন। এই আসবাবটি অত্যন্ত আরামদায়ক।