দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড মামলায় জামিনে মুক্ত হলেও রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে মদন মিত্রকে যে ভালমতো ঘাম ঝরাতে হচ্ছে তা তাঁর উপর নজর রাখলেই বোঝা যায়। উপরি যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্প্রতি একটি বেফাঁস মন্তব্য এ হেন মদনকে বেশ অস্বস্তিতেই ফেলে দিয়েছিল।
কিন্তু কাট টু ডায়মন্ড হারবার রিভারসাইড। মঙ্গলবার বিকেলে গঙ্গার তীরে বাঁধা তৃণমূলের মঞ্চই যেন জানান দিয়ে গেল, তৃণমূলে মদনকে ভুলে যাওয়া মুশকিলই শুধু নয়, না মুমকিন্।।
ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ হিসাবে চার বছর পূর্ণ হয়েছে অভিষেকের। সংশ্লিষ্ট লোকসভা এলাকার উন্নয়নে তিনি কী কী প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছেন তা তুলে ধরতে মঙ্গলবার সভা করেন যুব তৃণমূল সভাপতি। দেখা যায়, অভিষেক, দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ তমোনাশ ঘোষের সঙ্গে মঞ্চে প্রথম সারিতে বসে রয়েছেন মদনবাবু।
তার পর তাঁর বক্তৃতায় নিজেই বাকিটা খোলসা করেন মদন। বলেন, “অভিষেক আমাকে আজ কিনে নিয়েছে। আমি ওঁর কাছে বিক্রি হয়ে গেছি। যদি বলেন কেন? আঠারো বার ফোন করেছে। মিটিংয়ের জন্য নয়। বলেছে, এসো আমরা এক সঙ্গে ডাল, ভাত, পোস্ত খাবো। সঙ্গে একটু আলু ভাজা।” মদনই জানান, ডায়মন্ডহারবারে সভার আগে অভিষেক, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তিনি একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেছেন। তার পর এক সঙ্গে পৌঁছেছেন সভাস্থলে।
প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রীর বক্তৃতায় এ সব শুনে এ দিন হাততালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল। তাতে উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন মদনবাবুও। বলেন, “বাংলায় পঞ্চাশ বছর রাজত্ব করবেন অভিষেক।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পেট্রল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ধর্মতলায় এক প্রতিবাদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেছিলেন, সাধারণ মানুষের দু’হাজার কোটি টাকা মেরে দেওয়ার জন্য মদন মিত্রকে যদি তিন বছর জেল খাটতে হয়, তা হলে বিজেপি নেতারা জেলে যাবেন না কেন?
মদনবাবুর অস্বস্তি হয় তাতেই। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে চিটফান্ড মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে তিনি দু হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন বলা যায় না। এর পর মদনবাবুই বলতে থাকেন, অভিষেকের কথা নিয়ে কেউ কেউ খামোখা জল ঘোলা করছে। তিল কে তাল করেছে। অভিষেক, তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন তাঁর পরিবার। পরে মদন একদিন এও ইঙ্গিত দেন, অভিষেক আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন। কথা মতো কাজ। পরে এক অবস্থান মঞ্চে দাঁড়িয়ে মদন মিত্রকে বাঘের সঙ্গে তুলনা করেন অভিষেক।
এখন, মঙ্গলবার ডায়মন্ডহারবারের সভা শেষে মদনবাবুর অনুগামীরাই বলছেন, দেখলেন তো দাদা অভিষেকের পরিবার কিনা! নেমন্তন্ন করে দলের ক’জনকে ডাল-ভাত-পোস্ত খাইয়েছেন যুব সভাপতি!