আবার বিষ চোলাই, এ বার শান্তিপুরে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: ২০১১র পর ২০১৮। আবার ফিরল বিষমদের আতঙ্ক। এ বার শান্তিপুরে। বিষমদের বলি হলেন আটজন। অসুস্থ ১৯ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের মধ্য়ে একজন মহিলা। অভিযান যতই চলুক, চোলাই মদের ঠেক যে রমরমিয়ে চলছে, এই ঘটনা
শেষ আপডেট: 28 November 2018 07:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: ২০১১র পর ২০১৮। আবার ফিরল বিষমদের আতঙ্ক। এ বার শান্তিপুরে। বিষমদের বলি হলেন আটজন। অসুস্থ ১৯ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতদের মধ্য়ে একজন মহিলা। অভিযান যতই চলুক, চোলাই মদের ঠেক যে রমরমিয়ে চলছে, এই ঘটনায় প্রকাশ্যে এল তা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত এবং অসুস্থদের সকলেই শান্তিপুরে গঙ্গার ধারে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন তাঁরা। বেশিরভাগই শান্তিপুর এবং পূর্ব বর্ধমানের কালনার বাসিন্দা। মৃতদের নাম, দুলারচান মাহাত (৪০), ভালোয়া মাহাত (৪৫) , বুটো মাহাত(৩২) সুনীল মাহাত (৩২), কাশীনাথ মাহাত (৫০) গৌতম শর্মা (২৪) ও মুন্না রাই (৩৫), বাসুদেব মাহাত ( ৪৯ )।
ঠিক দু'মাস আগে ২৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সংগ্রামপুর বিষমদ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত খোঁড়া বাদশা সহ ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে আলিপুর জেলা ও দায়রা আদালত। ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে দোষীদের। ২০১১ সালে সংগ্রামপুরে বিষমদ খেয়ে মৃত্যু হয় প্রায় ২০০ জনের। এরপর উস্তি থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ওই মদের ঠেকের মালিক খোঁড়া বাদশা-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে। পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত খোঁড়া বাদশা। বেশ কয়েকদিন পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সাত বছর মামলা চলার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেই মামলার রায় দেয় আলিপুর আদালত। খোঁড়া বাদশা, নজরুল লস্কর, খয়রুল লস্কর এবং দুখে লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। বেকসুর খালাস পান সাতজন।রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে খোঁড়া বাদশা দাবি করে, তাকে অন্যায় ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করার কথাও জানায় সে ।
এ দিকে বুধবার বিষমদে মৃত্যুর খবর ছড়াতেই শান্তিপুর থানার নৃসিংহপুরের চৌধুরীপাড়ায় আতঙ্ক ছড়ায়। পুলিশ সূত্রে খবর, চন্দন মাহাতো নামে এক যুবক বর্ধমান থেকে মদ নিয়ে এসে বাড়িতে বসেই তা বিক্রি করতেন। এলাকার হতদরিদ্র দিনমজুররা প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই ভিড় জমাতেন এখানে। তারপর মদের নেশায় চুর হয়ে চলত নানা অসামাজিক কাজ। বিষমদের বলি হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের পরিবারের লোকজন জানাচ্ছেন, মদ খেতে নিষেধ করলেই জুটত মারধর। এমনকি মদ বিক্রেতারা এসেও হুমকি দিত।
প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সন্ধেবেলাতেও মদের ঠেকে এসে ভিড় জমিয়েছিলেন ইটভাটার শ্রমিকরা। মদ খেয়ে ছটফট করতে থাকেন তাঁরা । তাদের মধ্যে তিনজন কালনা হাসপাতালে মারা যান। তিন জন মারা যান শান্তিপুর ষ্টেট জেনারেল হাসপাতালে। অন্য একজন মারা যান বালিতে। বাকিরা শান্তিপুর ষ্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে এই ব্যবসা চলত বলে অভিযোগ। এমনকী অভিযোগের তির যে চন্দন মাহাতোর বিরুদ্ধে তার পরিবারের লোকজনও জানান, দিনকয়েক আগেই একবার পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল চন্দনকে। কিন্তু টাকা পয়সা দিয়ে রফা করেই সে ছাড়া পায়। তবে বিষমদে মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হতেই গা ঢাকা দিয়েছে সে।
এলাকায় আতঙ্ক থাকায় ঘটনাস্থলে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে।