
শেষ আপডেট: 15 March 2024 00:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেজিস্টারে নাম রয়েছে ৪৫ জন শিক্ষকের। অথচ উপস্থিত ৩৩ জন। অর্থাৎ ১২ জন শিক্ষক অনুপস্থিত! বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির শতাব্দী প্রাচীন ফণীন্দ্রদেব স্কুলে সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
এরপরই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
জলপাইগুড়িতে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ। সেখানে গিয়ে এদিন ওই স্কুল পরিদর্শনে যান বিচারপতি। আচমকা বিচারপতি স্কুলে পৌঁছে যাওয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন তিনি। বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। স্কুলের নর্দমায় মিড ডে মিলের ভাত পরে থাকতে দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডি আই (সেকেন্ডারি) বালিকা গোলের কাছে কারণ জানতে চান।
পরে বিচারপতি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘরে গিয়ে শিক্ষকদের রেজিস্টার বুক নিয়ে আসতে বলেন। আর এতেই কার্যত বিপদে পড়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, এই স্কুলের মোট ৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জন অনুপস্থিত। কেন এত শিক্ষক একসঙ্গে একই দিনে স্কুলে অনুপস্থিত তা নিয়ে তিনি রিপোর্ট তলব করেন।
সারপ্রাইজ ভিজিট শেষে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন,"আগে স্কুলগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট হতো। এখন হয় না। মূলত এই কারনেই স্কুল পরিদর্শনে আসা। পড়ুয়ার সংখ্যা দেখে খুব ভাল লাগলো। কিন্তু স্কুলের পরিকাঠামোতে খামতি রয়েছে। আজ প্রচুর শিক্ষক অনুপস্থিত দেখলাম। রিপোর্ট চেয়েছি।"
স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিমান বসু বলেন, "আমাদের স্কুলে প্রায় দু'হাজার পড়ুয়া রয়েছে, সেই অনুপাতে শিক্ষক কম। আমরা এই বিষয়টি বিচারপতির কাছে জানায়। উনি স্কুলের রেজিস্টার দেখতে চান। তখনই ১২ জন শিক্ষকের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন।"
প্রধান শিক্ষক জানান, "এর মধ্যে কয়েকজন ছুটিতে আছেন। কয়েকজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক খাতা আনার জন্য অন ডিউটি রয়েছেন। দুজনের মা মারা গেছে। এমন বিভিন্ন কারনে শিক্ষক শিক্ষিকা অনুপস্থিত।"
বিচারপতির সারপ্রাইজ ভিজিট প্রসঙ্গে জেলা স্কুল পরিদর্শক ( ডিআই) বালিকা গোলে বলেন, "এই স্কুলে বৃহস্পতিবার ১২ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। উনি রিপোর্ট পেশ করতে বলেছেন। আমরা নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই উনার এজলাসে পেশ করব।"