শহিদ স্মরণে নেতাইয়ে এসে বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগের কথাও শুনলেন শুভেন্দু
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: শহিদদের স্মরণ করতে প্রতিবছরই সাতই জানুয়ারি নেতাইয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারি। এসেছিলেন এ বারও। মঙ্গলবার মঞ্চে উঠে শহিদদের স্মরণ করার পরে পায়ে হেঁটে গ্রামে ঢোকেন তিনি। শহিদ স্মরণে কমিউনিটি হলে বসে কথা বলেন গ্রামের লোক
শেষ আপডেট: 7 January 2020 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: শহিদদের স্মরণ করতে প্রতিবছরই সাতই জানুয়ারি নেতাইয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারি। এসেছিলেন এ বারও। মঙ্গলবার মঞ্চে উঠে শহিদদের স্মরণ করার পরে পায়ে হেঁটে গ্রামে ঢোকেন তিনি। শহিদ স্মরণে কমিউনিটি হলে বসে কথা বলেন গ্রামের লোকেদের সঙ্গে। শোনেন তাঁদের অভাব অভিযোগের কথা। এটা অবশ্য এই প্রথম।
২০১১ সালের সাতই জানুয়ারি নেতাইয়ে গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল চার মহিলা-সহ মোট ন’জনের। ফুলকুমারী মাইতি, সরস্বতী ঘোড়ুই, দীপালি আদক, আরতী মণ্ডল, অরূপ পাত্র, ধ্রুবপ্রসাদ গোস্বামী, ধীরেন সেন, সৌরভ ঘোড়ুই ও শ্যামানন্দ ঘোড়ুইয়ের স্মরণে প্রতিবছরই নেতাইয়ে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার শহিদ স্মরণের পরে সেখানে উপস্থিত সবাইকে তিনি গ্রামের কমিউনিটি হলে আমন্ত্রণ জানান। তারপর নিজেই মঞ্চ থেকে নেমে পায়ে হেঁটে রওনা দেন। কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে বাসিন্দাদের অভাব অভিযোগ শোনেন শুভেন্দু। কে কোন ভাতা পাচ্ছেন না, আবাস যোজনায় বাড়ি পাননি কে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
নেতাই কাণ্ডে অভিযুক্ত সিপিএম নেতা রথীন দণ্ডপাট গত বছরের জুলাই মাসে আদালতের নির্দেশে তাঁর বাড়ি ফিরে পান। এখন সে বাড়িতে বসবাস করছেন তাঁর পরিবার। সে প্রসঙ্গ টেনে এনে শুভেন্দু বলেন, “কোর্টের নির্দেশে বাড়ি ফিরে পেয়েছেন রথীন দন্ডপাট। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না। তবে এটা বলব, গ্রামবাসীদের নিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করা উচিৎ তাঁর।”

সিপিএম নেতা রথীন দণ্ডপাতের বাড়ি থেকেই ২০১১ সালের সাতই জানুয়ারি নেতাইয়ে গ্রামবাসীদের ওপরে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। নিহত হন ন’জন। আহত হন ২৮ জন। সেই ঘটনার পরে রথীন দণ্ডপাত সহ কয়েকজন গ্রেফতার হন। বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়। আট বছর বাদে সেই বাড়ি ফিরে পান রথীন দণ্ডপাতের পরিবার। গত বছরের ১৯ জুলাই ম্যাজিস্ট্রেট, সিবিআই অফিসার ও পুলিশের সামনেই ওই বাড়ি তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। চাবি দিয়ে দরজার তালা খোলা যায়নি। ছেনি-হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে ফেলা হয়। সেখানে রথীন দণ্ডপাত নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালে জনসাধারণের কমিটির লোকজন চড়াও হয়েছিলেন সিপিএম নেতা রথীন দণ্ডপাতের ওপরে। তারপরে রথীনবাবু মা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে লালগড়ে দিদির বাড়িতে চলে যান। নেতাই গ্রামের ওই বাড়ির নীচের তলার একটি অংশে থাকতেন রথীনবাবুর কাকিমা আলো দণ্ডপাত। রথীনবাবুরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে মাওবাদী ও জনসাধারণের কমিটিকে রুখতে সেখানে সিপিএমের ক্যাম্প তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই ক্যাম্প থেকে ছুটে আসা এলোপাথাড়ি গুলিতে হতাহত হন বহু। রথীনবাবু বাদে অনুজ পাণ্ডে, ডালিম পাণ্ডে সহ মোট ২০ জন সিপিএম নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব যায় সিবিআইয়ের হাতে। বিচার চলাকালীন রথীনবাবু নিজের বাড়ি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন।