দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেবে দেখা হবে। অনশনের ১২তম দিনে আন্দোলনকারীদের এই ভেবে আশ্বাসটুকুই দিতে পারলেন ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন, দেবাশিস ভট্টাচার্য।
কী ভেবে দেখা হবে? শনিবার নতুন অধ্যক্ষ অশোক ভদ্র এবং আন্দোলনকারীছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করার পরে ডিএমই জানান, এই মুহূর্তে সব ক'টি হস্টেল মিলিয়ে কতগুলি শয্যা আছে এবং মোট ছাত্রসংখ্যা কত-- এই সিটমেট্রেক অনুপাত দেখার জন্য হস্টেলগুলি ঘুরে দেখবেন সুপারেরা। ঘুরে দেখার পরে তাঁধের যদি মনে হয়, সত্যিই ছাত্রসংখ্যার তুলনায় থাকার জায়গার অভাব রয়েছে, তা হলে নতুন ১১ তলা বিল্ডিংয়ের দু'টি ফ্লোর প্রথম বর্ষের পাশাপাশি অন্য ছাত্রদের জন্যও ছাড়া যায় কি না, তা ভেবে দেখা হবে।
যদি ভেবে দেখে মনে হয় ওই হস্টেলে ছাত্রদের থাকতে দেওয়াও উচিত, তা হলেও কিন্তু সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বা ডিএমই--কেউই নেবেন না। দু'টো ফ্লোর ছাড়ার প্রস্তাব যাবে সাস্থ্যসচিব অনিল বর্মার কাছে। তাঁর সম্মতিক্রমে তা পাঠানো হবে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি হ্যাঁ বললে, তবেই হস্টেল পাবেন ছাত্রেরা! অর্থাৎ এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে মুখ্যমন্ত্রীর উপরেই। সেটাও আবার দীর্ঘ একটি প্রক্রিয়ার পরে।
সিদ্ধান্ত জানার পরে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ছাত্রেরা। ২৭০ ঘণ্টা অনশন করার পরে কার্যত অসুস্থতার শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছেন ছয় ছাত্র। আরও ১৫ জন তিন দিন ধরে অনশনে বসেছেন। এই অবস্থায় এত দীর্ঘ পদ্ধতিতে আরও দুয়েক দিন লাগার কথা। তার মধ্যে আগামী কাল রবিবার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আটকে থাকবে। তা সত্ত্বেও এভাবে কেন দেরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সকলেই।
শুক্রবারই অশোক ভদ্র জানিয়েছিলেন, তিনি স্বাস্থ্য ভবনে বৈঠক করে ছাত্রদের কথা জানিয়েছেন। তিনি সর্বোত্তম চেষ্টা করবেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানের। এমনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রবিবার হতে পারে অনশনভঙ্গের উদযাপন। কিন্তু শনিবারের বৈঠকে সেই দ্রুততার ছাপ পাওয়া গেল না মোটেই। বরং হস্টেল দেওয়ার নিশ্চয়তা বদলে বারবার করে অনুরোধ করা হল অনশন ভেঙে সকলকে স্বাভাবিক কাজে ফিরতে।
এর মধ্যেই তিনি ছাত্রদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন আরও এক বার। বারবার বলেন চিকিৎসা নিতে। জানান, জোর করে অনশন তোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাঁর কথায়, "আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করলে আমার কিন্তু কিছু করার থাকবে না।" তা হলে কি পুলিশ ঢুকিয়ে অনশন তোলার চেষ্টা করা হবে? সে দিকেই কি ইঙ্গিত করলেন অধ্যক্ষ? আশঙ্কা ছড়িয়েছে মেডিক্যালে।
ইতিমধ্যেই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শেষ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। আশা ছিল, মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে হয়তো ইতিবাচক কোনও আশার কথা বলবেন তিনি। তেমনটা হয়নি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যে ছাত্রদের গায়ে পুলিশ হাত দিলে তার ফল খুব একটা ভাল হবে না, সেই আন্দাজও সরকারের আছে বলেই মনে করছেন সকলে।
ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল কলেজের অনশন নিয়ে মুখ খুলেছেন শঙ্খ ঘোষ। তিনি বলেন, "কোনো দাবি মেটানোর জন্য অনশন বা ঘেরাওকে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব পছন্দ করি না। কিন্তু কোনো কোনো সঙ্গত দাবি নিয়ে আন্দোলন যখন হয় তখন তার সপক্ষে কথা বলতে চাই। মেডিকেল কলেজের অনশনরত এই ছাত্রদের সঙ্গত দাবি মেটানোর জন্য কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো আয়োজন করছেন না কেন, তা আমি বুঝতে পারি না। অন্য সকলের সঙ্গে মিলে আমিও এই অনুরোধ জানাই, যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাটির মীমাংসার জন্য কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিন। কোনো কোনো ছেলে এরই মধ্যে শারীরিক যে অবস্থায় পৌঁছেছে সেটা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। আমরা সকলেই দুশ্চিন্তায় আছি।"
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও। দেখে নিন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=wgVDaB_Ho-Q&feature=youtu.be