দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা সংক্রমণ মোকাবিলার প্রধান অস্ত্র হল ভ্যাকসিন। ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে তার ট্রায়াল। আর আগামী বছরের শুরুতেই ভারতে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন। তবে সেই ভ্যাকসিন দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিন রাজ্যসভায় তাঁর বক্তব্যের সময় অনেকেই ভ্যাকসিনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার জবাবে হর্ষ বর্ধন বলেন, ভারতে প্রথম করোনা সংক্রমণের আগে থেকেই এই অতিমারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্র। তিনি বলেন, ৮ জানুয়ারি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ১৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। ২০ জানুয়ারি প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ভারতে। প্রথম আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ১৬২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই অতিমারী ছড়িয়ে পড়ার সময় আমেরিকার মতো প্রথম সারির দেশও এই বিষয়ে শেখার চেষ্টা করছিল। সব দেশকেই কিছুটা সময় লেগেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে পিপিই কিট থেকে নমুনা পরীক্ষা সব দিকেই চোখধাঁধানো অগ্রগতি দেখিয়েছে ভারত। এই সময়ের মধ্যে ৬৪ লাখ পরিযায়ী শ্রমিককে বাস ও ট্রেনের মাধ্যমে তাঁদের রাজ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও রাজ্যের প্রতি পক্ষপাত করা হয়নি।
এরপরেই করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন ডক্টর হর্ষ বর্ধন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী বছরের শুরুতেই একটা ভ্যাকসিন পেয়ে যাব। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলছি। আমরা সেই নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যে রয়েছি যারা এই ভাইরাসকে আলাদা করতে পেরেছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৪০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”
অবশ্য ভ্যাকসিন পেয়ে গেলেই তা সঙ্গে সঙ্গে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন পেয়ে যাওয়ার পরে তা সবার কাছে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগবে। তার পরিকল্পনাও করা হয়ে গিয়েছে। তবে আমাদের সংক্রমণের চেন ভাঙতে হবে। মাস্ক হচ্ছে আমাদের সবথেকে বড় সুরক্ষাকবচ। লকডাউন হাল্কা হওয়ার পরে মানুষ মনে করেছেন ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় নির্দেশিকা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে ও মাস্ক পরতে হবে। আমাদের অসচেতনতার জন্যই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তাই মাস্ক পরা ও দু’গজ দূরত্ব বজায় রাখাকেই সবথেকে বড় সামাজিক ভ্যাকসিন হিসেবে মানতে হবে আমাদের।”
রাজ্যসভায় এদিন অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতে করোনা পরিস্থিতির তুলনাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের থেকে আমেরিকা ও ব্রাজিলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। ভারতের সুস্থতার হার বিশ্বে সবথেকে বেশি। এই হার ক্রমাগত বাড়ছে। আমেরিকার পরেই নমুনা পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এই মুহূর্তে বিশ্বে সবথেকে কম মৃত্যুহার ভারতে। বর্তমানে তা ১.৬৪ শতাংশ। এই মৃত্যুহারকে ১ শতাংশের নীচে নামিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।