দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ের বিয়ের পরে পছন্দ হয়নি জামাইকে। তাই তাঁর গলায় বকলস ও চেন বেঁধে তাঁকে কুকুরের মতো ডাকতে বাধ্য করল শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা! নৃশংস ও নিন্দনীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ইক্রামুদ্দিন নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় স্থানীয় তরুণীর। মেয়েটির বাড়ি থেকে মেনে নেয়নি সেই সম্পর্ক। তার পরেও মেয়ের বাড়ির লোকের আপত্তি অগ্রাহ্য করে তাঁরা আদালতে গিয়ে রেজিস্ট্রি করে ফেলেন।
ইক্রামুদ্দিনের দাবি, বিয়ের পরে সব ঠিকই ছিল। কিন্তু গত বছরের মে মাসে আচমকা ইক্রামুদ্দিনের বাড়ি থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ প্রথমে ইক্রামুদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে তারা। তার পরে জোর করে গলায় বেল্ট পরিয়ে কুকুরের ডাক ডাকতে বাধ্য করে তাঁকে!
https://twitter.com/ANINewsUP/status/1231447898073681921?s=20
এখানেই শেষ নয়। এই পুরো ঘটনাটির ভিডিও তুলে রাখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনার পরে ইক্রামুদ্দিন স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁর শ্যালক অর্থাৎ মেয়েটির ছোটভাই পুলিশেরই কনস্টেবল। সেই কারণে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলে তাঁর দাবি।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে ওই বিশ্রী ঘটনার ভিডিও। তার পরেই নড়ে বসে প্রশাসন। চাপ দেওয়া হয় পুলিশকে। তখনই নিচু তলায় নির্দেশ আসে ঘটনার তদন্ত করার। তাই পুলিশ শুরু করে কাজ। স্থনীয় থানার এক পুলিশ আধিকারিক প্রভাত কুমার বলেন, "আমরা একটি ভিডিও পেয়েছি। সব দিক দেখে একটি এফআইআর-ও দায়ের করে মামলা রুজু করা হয়েছে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।"
প্রেমের কারণে অত্যাচার, হেনস্থা এমনকি অনার কিলিংয়ের ঘটনাও নতুন নয়। কত প্রেমিকা প্রেমিকা বা দম্পতিকে যে কত রকম ভাবে এই প্রেমের মাসুল দিতে হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু বিয়ের পরে জামাই পছন্দ না হওয়ায় গলায় বেল্ট পরিয়ে কুকুরের ডাক ডাকতে বাধ্য করার মতো ঘটনা শুনে কার্যত সবাই স্তম্ভিত।