
শেষ আপডেট: 7 November 2020 16:39
মজার ব্যাপার হল রাজনীতি কখনওই তেজস্বীর প্রথম ভালবাসা ছিল না। তা ছিল ক্রিকেট। এক সময়ে ঝাড়খণ্ডের রাজ্য টিমে খেলেছেন। পরে আইপিএলে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলসে খেলেছেন। কিন্তু তেমন সাফল্য পাননি। হয়তো ক্রিকেট তাঁর জন্য ছিলও না। ললাটে ও রক্তে লেখাই ছিল রাজনীতি।
এ হেন তেজস্বীকে বিহার ভোটের শুরুতে কেউই তেমন গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। না বিজেপি বা জেডিইউ নেতারা না সংবাদমাধ্যম। কিন্তু ভোটের প্রচার পর্ব শুরু হতেই দেখা যায় তেজস্বীর সভাগুলিতে তরুণ, যুবকদের ঢল নেমেছে। কোভিড উপেক্ষা করে সে দেখার মতো স্বতঃস্ফূর্ত উন্মাদনা। আর সেই ভিড়কে উদ্দেশ করে তেজস্বী স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছেন নতুন প্রজন্মকে। মূলত কর্মসংস্থান ও বেকারত্বকে প্রচারের হাতিয়ার করেছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে বিহারের দশ লক্ষ যুবকের সরকারি চাকরি হবে।
তবে সমীক্ষকদের মতে, তেজস্বীর জমি হয়তো তৈরিই ছিল। কারণ, বিহারে সমীক্ষা করে দেখা গেছে একটানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকায় নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বদলের জন্য আকুল। সেই সুবিধাই হয়তো পেয়েছেন তেজস্বী। নীতীশের তুলনায় তাঁর জনপ্রিয়তা ছাপিয়ে গিয়েছে।
সব চেয়ে বড় কথা হল, এতদিন আরজেডি পার্টিটা পুরোপুরি লালু প্রসাদ নির্ভর ছিল। কিন্তু লালু এখন জেলে বন্দী। দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তেজস্বীই। ফলে বলা যায়, বাবার ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব জনভিত্তি গড়ে তুলতে হয়তো সফল হয়েছেন তেজস্বী।
তবে এ প্রতিবেদন একেবারেই বুথ ফেরত সমীক্ষার ভিত্তিতে লেখা। বিহার ভোটের ফলাফল প্রকাশ হবে ১০ তারিখ। দেখা যাক সত্যিই বাজিগর হয়ে উঠতে পারেন কিনা তেজস্বী।