দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড সংকটের মধ্যে দেশে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা গিয়েছে। সেই সঙ্গে সংকুচিত হচ্ছে জিডিপি। এই পরিস্থিতিতে চলতি আর্থিক বছরে দেশের জিডিপি সংকোচনের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ততটা হবে না বলেই জানিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। বলা হয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে ৯.৫ শতাংশ নয়, খুব বেশি হলে ৭.৫ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে দেশের জিডিপি। আর তারই প্রভাব দেখা গিয়েছে শেয়ার বাজারে। প্রথমবার সেনসেক্স ৪৫ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে। অন্যদিকে রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে নিফটিতেও।
এদিন শক্তিকান্ত দাসের ঘোষণার পরেই দেখা যায় বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। সেনসেক্সের সূচক এক ধাক্কায় বাড়ে ৩৫০ পয়েন্ট। ফলে তা পৌঁছে যায় ৪৫ হাজার ২৩ পয়েন্টে। এই প্রথমবার সেনসেক্সে এত বৃদ্ধি হল। সেইসঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে নিফটিরও সুচক বেড়েছে রেকর্ড হারে। ১০০ পয়েন্ট বেড়ে তা পৌঁছেছে ১৩ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে। শেয়ার বাজার এভাবে বাড়ায় আশার আলো দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের বক্তব্য, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতি।
লকডাউনের সময় সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছিল শেয়ার বাজার। সেনসেক্স নেমে গিয়েছিল ২৫ হাজার পয়েন্টে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেছিলেন, শেয়ার বাজারে এই ধাক্কার ফলে ভারতের অর্থনীতিও একটা বড় ধাক্কা খাবে। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার পর থেকেই ফের বাড়তে থাকে শেয়ার সূচক। এদিন তা রেকর্ড বৃদ্ধি হয়েছে। এভাবে শেয়ার বাজারে বৃদ্ধি ভাল ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তার অনেকটা কৃতিত্ব রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসিকে দিচ্ছেন তাঁরা।
শুক্রবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটি জানায়, লেন্ডিং রেট আগের মতোই রইল চার শতাংশ। এই নিয়ে পরপর তিনটি বৈঠকে লেন্ডিং রেট অপরিবর্তিত রাখা হল। গত মে মাসে রেপো রেট কমিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এখন তা মাত্র চার শতাংশ। ২০০০ সালের পরে এই প্রথমবার রেপো রেট এত কমানো হল।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইঙ্গিত দিয়েছে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আগামী দিনে বিভিন্ন রেট আরও কমানো হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, আগামী আর্থিক বছর থেকেই আবার বিকশিত হবে অর্থনীতি। চলতি বছরেও জিডিপি যতদূর সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা হচ্ছে না। এদিনই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, আগে ভাবা হয়েছিল, জিডিপি সংকুচিত হবে ৯.৫ শতাংশ হারে। এখন দেখা যাচ্ছে, সংকোচন ৭.৫ শতাংশ হতে পারে। সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া ত্রৈমাসিকে আশাতীতভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি। তার ফলে জিডিপির সংকোচনের হার কমেছে।
নভেম্বরের শেষে জানা যায়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভারতের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) সংকুচিত হয়েছে ৭.৫ শতাংশ হারে। এর আগের ত্রৈমাসিকে জিডিপির সংকোচন হয়েছিল ২৩.৯ শতাংশ। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের ত্রৈমাসিকের চেয়ে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জিডিপি সংকোচনের হার কমেছে। কিন্তু পরপর দু'টি ত্রৈমাসিকে জিডিপি সংকুচিত হওয়ায় ধরে নেওয়া হচ্ছে, মন্দার কবলে পড়েছে ভারতের অর্থনীতি। অর্থনীতিবদরা আশঙ্কা করেছিলেন, চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপির সংকোচন হবে ৮.৮ শতাংশ। বাস্তবে অর্থনীতির অবস্থা অত খারাপ হয়নি।
প্রথম ত্রৈমাসিকে লকডাউনে সব বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে আনলক পর্ব শুরু হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে জিডিপির সংকোচন হয়েছে কম হারে।