দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার প্রথমের দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর জনতা কার্ফু থেকে শুরু করে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। এই লকডাউন দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল ফের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদী। জানা গিয়েছে আগামীকাল বেলা ১১টায় হবে এই বৈঠক।
করোনা সংক্রমণ রুখতে ভারতে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই লকডাউনের সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব যেন বন্ধ থাকে, সে ব্যাপারে নজর দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষের যাতে খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে। লকডাউন অমান্য করে কেউ রাস্তায় বেরলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি সব রাজ্য ও শহরের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির যৌথ প্রচেষ্টাতেই এই করোনার বিরুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে রাজ্য সরকারগুলিও কেন্দ্রের সব নিয়ম মেনে চলছে। করোনা মোকাবিলায় সবরকমের চেষ্টা করছে তারা। মাঝেমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব। বিভিন্ন রাজ্যের খবর নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানে মূলত সব রাজ্যের কী কী দরকার সেই কথা শুনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, সবাই বলেছেন কী কী দরকার। প্রধানমন্ত্রী সব শুনে নিয়েছেন। সেই অনুযায়ী রাজ্যগুলিকে তা সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তারপরেও অবশ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে একাধিক রাজ্যের। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও বারবার বলেছেন, কেন্দ্রের থেকে কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা। সবকিছু নিজেদের করতে হচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতারা বলছেন, কেন্দ্রের তরফে সাধ্যমতো সাহায্য পাঠানো হচ্ছে সব রাজ্যে। কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন না। এই আবহের মধ্যেই আগামীকাল ফের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক মোদীর। এই বৈঠকে করোনা মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপের কথা আলোচনা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।