দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার জানা গিয়েছিল, মণিপুরের বিদ্রোহী এনপিপি বিধায়কদের নিয়ে দেখা করতে দিল্লি গিয়েছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। তারপর দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা উত্তর-পূর্বে বিজেপির 'ক্রাইসিস ম্যানেজার' হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়ে দিলেন, মণিপুরের সংকট কেটে গিয়েছে।
টুইট করে হিমন্ত তিন বিধায়ক তথা মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া এনপিপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে লেখেন, "বিধায়করা তাঁদের মন পরিবর্তন করেছেন। সভাপতি নাড্ডার সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের পর মণিপুরের সংকট কেটে গিয়েছে।
বিজেপি ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির বিধায়কদের ইস্তফার পর গভীর সংকট তৈরি হয় উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্যটিতে। সরকার টিকিয়ে রাখতে বিজেপি যে পদক্ষেপ শুরু করে দিয়েছিল তা কয়েকদিন ধরেই মালুম হচ্ছিল। সমর্থন তুলে নেওয়া এনপিপির তিন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে মঙ্গলবার রাতের বিমানে ইম্ফল থেকে দিল্লি যান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী তথা এনপিপি সভাপতি কনরাড সাংমা। প্রথমে জানা যায় তাঁরা রাজধানী গিয়েছেন। পরে আবার শোনা যায়, দিল্লি নয়। গুয়াহাটি গিয়েছেন তাঁরা। দুপুরে জানা যায়, গুয়াহাটিতে যাননি সাংমারা। পৌঁছেছেন বিজেপি সদর দফতরেই।
৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভায় বিজেপি ও এনপিপি মিলিয়ে মোট সংখ্যা ২৯। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও বিজেপির বীরেন সিংয়ের নেতৃত্বেই সরকার চলছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল গায়ের জোরে, টাকার জোরে বিজেপি ক্ষমতা দখল করে রেখেছে।
১৭ জুন থেকে ইস্তফা পর্ব শুরু হয়। বিধায়কদের পর তিন মন্ত্রীও ইস্তফা দিয়ে দেন। বিজেপির তিন বিধায়ক যোগ দেন কংগ্রেসের। এরপর কংগ্রেসের তরফে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিং রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানান। কাকতালীয় ভাবে তারপরই, দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জেরা করতে সিবিআই টিম পৌঁছে যায় মণিপুরে। কংগ্রেস অভিযোগ করে, সরকার বাঁচাতে তদন্ত এজেন্সিকে লেলিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।
দিল্লি যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংমা বলেন, সরকার পরিচালনার বিষয়ে বিধায়করা বেশ কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। আমার পক্ষে তা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই দিল্লি যাচ্ছি।
এহেন টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা উত্তর-পূর্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা মন্তব্য করেন 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।' মণিপুর পৌঁছলে কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ ও অজয় মাকেনকে কোয়ারেন্টাইন করে দেয় স্বাস্থ্য দফতর। কংগ্রেস অভিযোগ করে, জবরদস্তি বন্দি রাখা হয়েছে তাঁদের নেতাদের। যাতে তাঁরা বিধায়কদের সঙ্গে কথা না বলতে পারেন।
ইস্তফা পর্বের পর যখন বিজেপি-এনপিপি জোটের বিধায়ক সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ১৮টিতে তখনই দেখা যায় রাজ্যসভার ভোটে বিজেপি প্রার্থী ২৭টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তা দেখেই অনেকে আন্দাজ করেছিলেন, বিজেপি নির্ঘাত খেলা ঘোরাতে শুরু করেছে। হলও তাই।