দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণের জেরে দেশজুড়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে স্কুল, কলেজ। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পরীক্ষাও। সে দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা হোক, কিংবা কলেজের স্নাতক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরের পরীক্ষা। দু’মাসের উপর স্থগিত থাকার পরে এবার ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার থেকে কর্নাটকে দশম শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে মানতে হচ্ছে একাধিক নিয়ম।
জানা গিয়েছে, এবার কর্নাটকে প্রায় আট লাখ পরীক্ষার্থী দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বসেছে। যদিও এই পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবুও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। শিক্ষামন্ত্রী সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় এটা রাজ্য সরকারের কর্তব্য। আমাদের রাজ্যে একজন পরীক্ষার্থীর জীবনে দশম শ্রেণির পরীক্ষা একটা মাইলফলক। আমরা অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই পরীক্ষা হবে। আমরা হাইকোর্টে একটি এসওপি জমা দিয়েছিলাম। আদালত অনুমতি দিয়েছে।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষায়। প্রতিটি ঘরে ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে বসতে দেওয়া হবে। একটু বড় ঘর হলে ২০ জন বসবে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা হবে। প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে চেক করা হবে। যদি কোনও পরীক্ষার্থী মাস্ক পরতে ভুলে যায়, তাহলে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাকে মাস্ক দেওয়া হবে। স্যানিটাইজার ব্যবহার করা হবে। আমরা অভিভাবকদের অনুরোধ করেছি সরকারের সহযোগিতা করতে ও পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে।”
কর্নাটকের প্রতিটি স্কুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। এদিন সকাল থেকেই সেই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। পরীক্ষার বেশ খানিকটা আগেই পরীক্ষার্থীরা হাজির হয়েছেন। কেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্ব করে দেওয়া হয়েছে। সেই দূরত্ব অনুযায়ী দাঁড়িয়ে পরীক্ষার্থীরা। প্রত্যেককে মাস্ক ও স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে সবার দেহের তাপমাত্রা স্ক্যান করা হয়েছে। তারপরেই তাদের হলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্কুলের বাইরে থেকে হলের ভিতর পর্যন্ত নির্দিষ্ট দূরত্বে আসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। হলের ভিতরে প্রতিটি বেঞ্চের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব করা হয়েছে। পরীক্ষকও মাস্ক ও গ্লাভস পরে থাকছেন। তাঁকেও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হচ্ছে। পরীক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদেরও তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য শিক্ষা দফতরের তরফে অনেকগুলি টিম তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে সবটা নজর রাখছেন।
কর্নাটকের নামকরা স্কুল সেন্ট জোসেফ’স কনভেন্ট গার্লস হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, “৪৬৪ জন পরীক্ষার্থী আমাদের স্কুলে। প্রতিটি ক্লাসে ২০ জন করে বসছে। কন্টেইনমেন্ট এলাকা থেকে আসা পরীক্ষার্থী ও কারও শরীর খারাপ থাকলে তাদের জন্য দুটি ঘর রাখা হয়েছে। আমরা গত তিন সপ্তাহ ধরে কাজ করে পুরো বিষয়টি ঠিক করেছি। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে। মাস্ক পরা হচ্ছে। স্যানিটাইজারের ব্যবহার করা হচ্ছে। যা যা স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে সব মেনেই পরীক্ষা চলছে।”