দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর রহস্যজনক খাম পেয়েছিলেন ভোপালের বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা। হিন্দুত্ববাদী নেত্রী অভিযোগ করেছিলেন, ওই খামের গায়ে কেমিক্যাল লাগানো ছিল। যা দাহ্য। অভিযোগ জানিয়েছিলেন সাংসদ। অবশেষে অভিযুক্ত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক সইদ আবদুল রহমানকে আটক করল মহারাষ্ট্র পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরে ভোপালে চেম্বার চালান ওই চিকিৎসক। তিনি আসলে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। ওই খাম পাওয়ার পরই থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী। অভিযোগ করেছিলেন, নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র করেই ওই খাম পাঠানো হয়েছিল। মধ্যপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ওই খাম পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। প্রমাণ মিলেছে ওই খামের গায়ে দাহ্য কেমিক্যাল ছিল।
ভোপাল পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সাংসদ অভিযোগ জানানোর পরই ভোপালের চেম্বারে আসা বন্ধ করে দেন ওই চিকিৎসক। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি আসলে মহারাষ্ট্রের লোক। মহারাষ্ট্র পুলিশকে সমস্ত তথ্য দেওয়া হয় মধ্যপ্রদেশ পুলিশের তরফে। গতকাল তাঁকে আটক করা হয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, রবিবার ভোপাল পুলিশের একটি দল মহারাষ্ট্র যাচ্ছে। রিমাণ্ডে তাঁকে ভোপালে নিয়ে আসা হবে। তারপর চলবে জিজ্ঞাসাবাদ।
প্রজ্ঞা জানিয়েছিলেন, খামের ভিতরে উর্দুতে অনেক কিছু লেখা ছিল। খাম থেকে ঝাঁঝালো গন্ধ বেরচ্ছিল বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। মহারাষ্ট্র পুলিশের তরফে বলা হয়েছে ধৃত চিকিৎসকের থেকে বেশ কিছু বই, একটি ট্যাব এবং দুটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ওই চিকিৎসক কোনও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিনা।
এই প্রথম সাংসদ হয়েছেন প্রজ্ঞা। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ ভোটে ভোপাল থেকে হারিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংকে। সাংসদ হওয়ার পর থেকে একাধিকবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। কখনও বলেছেন বাবরি ভেঙে ফেলা ভারতের একটি ঐতিহাসিক ভাল কাজ আবভার কখনও সংসদে দাঁড়িয়ে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দিয়েছেন। এবার কেমিক্যাল খাম নিয়ে ফের সংবাদে প্রজ্ঞা।