দ্য ওয়াল ব্যুরো: বায়োকনের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর কিরণ মজুমদার শ দাবি করেছিলেন, করোনায় মৃত্যুহার ৬২ শতাংশ কমাতে সক্ষম সোরিয়াসিসের ওষুধ ইটোলিজুমাব। পরীক্ষা করে তার প্রমাণ মিলেছে বলেই দাবি করেন তিনি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেল ডক্টর বলরাম ভার্গভ জানালেন, করোনায় মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে কতটা সক্ষম ইটোলিজুমাব ও টোসিলিজুমাব তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই এই দুই ড্রাগের আরও ট্রায়াল দরকার।
বায়োকনের তরফে দাবি করার পরেই আইসিএমআরের সামনে এই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি সত্যিই করোনার সম্ভাব্য প্রতিষেধক এসে গিয়েছে ভারতের হাতে? এই প্রশ্নের জবাবেই এই কথা বলেন ভার্গব।
সোমবার একটি ওয়েবিনারে বায়োকনের তরফে কিরণ মজুমদার শ বলেন, চার পর্যায়ের রিকভারি ট্রায়াল হয়েছিল ইটোলিজুমাবের। ৩০ জন করোনা রোগীকে দুটি দলে ভাগ করে কন্ট্রোলড ট্রায়াল করা হয়। ২০ জনকে সোরিয়াসিসের ইঞ্জেকশন ইটোলিজুমাব দেওয়া হয়েছিল। বাকিদের বিভিন্ন ডোজে অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেওয়া হয়। মে মাস থেকে শুরু হয়েছিল ক্নিনিকাল ট্রায়াল। প্রায় মাস দুয়েক ধরে ওষুধের ডোজ প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা গেছে ২০ জন করোনা রোগী সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন। পরে বাকি দশজনকেও ইটোলিজুমাব ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তাঁদের অবস্থাও এখন স্থিতিশীল।
এরপরেই সাংবাদিক সম্মেলনে ডক্টর বলরাম ভার্গবকে প্রশ্ন করা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইটোলিজুমাবের অফ-লেবেল ব্যবহারের বিষয়ে। অফ-লেবেল ব্যবহার অর্থাৎ কোনও ড্রাগকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগেই যখন তার ব্যবহার শুরু হয়। এই প্রশ্নের জবাবে ভার্গব বলেন, “সংকটাপন্ন কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে সাইটোকাইন প্রবাহের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অতিরিক্ত মাত্রায় সাইটোকাইনের ক্ষরণ হচ্ছে, যার জেরে শরীরের মধ্যে এক প্রদাহের সৃষ্টি হচ্ছে ও রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। এই সাইটোকাইনের প্রদাহ কমানোর জন্য দুটি ড্রাগের কথা ভাবা হয়েছিল। একটি টোসিলিজুমাব ও অন্যটি ইটোলিজুমাব। আশা করা হয়েছিল সাইটোকাইনের প্রদাহ কমাতে সক্ষম হবে এই দুই ড্রাগ।”
ভার্গব আরও বলেন, “এখনও পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে এই দুটি ড্রাগ করোনায় মৃত্যুহার কমাতে সক্ষম। তাই এই দুটি ড্রাগের আরও ট্রায়াল প্রয়োজন। গোটা বিশ্বজুড়ে ট্রায়াল চলছে, যে এই দুই ড্রাগের মাধ্যমে করোনায় মৃত্যুহার কমানো যায় কিনা।”
আইসিএমআরের ডিরেক্টর জেনারেলের এই মন্তব্যের পরে অবশ্য কিরণ মজুমদার শ বলেন, “ডক্টর ভার্গব ঠিক কথাই বলছেন। আমরা ছোট স্তরে জরুরি অবস্থায় এই ড্রাগ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছি। এখনও চতুর্থ পর্যায়ের ট্রায়াল করা বাকি রয়েছে।” অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত অফ-লেবেল ব্যবহার হয়েছে এই ড্রাগের। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে আরও বিস্তারিত ভাবে এই ড্রাগ ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার আগে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলের তরফে চতুর্থ পর্যায়ের ট্রায়াল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।