দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ ঘণ্টা আগেই তাইওয়ানে আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে সমকামী বিবাহ। এ খবর পাওয়ার পরেই বোধহয় আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনিও। সাহস করে জনসমক্ষে স্বীকার করেছিলেন সমলিঙ্গের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এবং ভালোবাসার কথা। আর সেটাই কাল হলো। এ দেশের সমাজ এখনও তাইওয়ানের মতো প্রগতিশীল হতে পারেনি বোধহয়। আর সেই জন্যই নিজের সমকামী সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনতেই ছি ছি শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতের বিখ্যাত অ্যাথলিট দ্যুতি চাঁদের নামে। এতদিন যিনি ছিলেন দেশের সোনার মেয়ে, মুহূর্তেই তাঁকে নিয়ে গসিপ শুরু হয়ে গিয়েছে সারা দেশ। এমনকী মেয়ে লেসবিয়ান এ কথা জানার পর দ্যুতিকে বহিষ্কার করেছে তাঁর পরিবারও। কার্যত দেশের সম্মানীয় স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ এখন একঘরে।
কিন্তু কী অপরাধ করেছেন দ্যুতি? ভালোই তো বেসেছেন একজনকে। হতেই পারে সে তাঁর সমলিঙ্গের। একজন মেয়ে আর একজনকে মেয়েকে ভালোবাসতে পারে না তা তো নয়। আর দেশের শীর্ষ আদালত তো সমলিঙ্গের প্রেমকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েইছে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? একটু উন্নত চিন্তাশীল ব্যক্তিদের প্রায় সকলেই বলছেন, আদালত মান্যতা দিলে তো মানুষের মানসিকতা বদলায় না। তাই প্রেমের মাসুল এ বার দ্যুতিকে গুনতেই হবে।
হায়দরাবাদে ট্রেনিং চলছিল দ্যুতির। সেখান থেকেই পিটিআই-কে বছর ২৩-এর অ্যাথলিট জানান, নিজের দেশের বাড়ি ওড়িশায় এক ১৯ বছরের তরুণীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। ভুবনেশ্বর কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। বাড়ি গেলেই সময় কাটান নিজের সঙ্গীর সঙ্গে। দ্যুতির কথায়, "ও আমার সোলমেট। ভবিষ্যতে ওর সঙ্গেই থাকতে চাই।" নিজের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনার পরেই দ্যুতিকে ত্যাজ্য করেছে তাঁর পরিবার।
দ্যুতি বলেন, "আমার দিদির কথা আমাদের পরিবারের সকলেই শোনে। ও সাংঘাতিক। আমার বড় দাদাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, কারণ তার বউকে ওর পছন্দ ছিল না। আমাকেও বাড়ি থেকে বের করা, সম্পত্তি থেকে বেদখল করার ভয় দেখিয়েছে।" তবে দ্যুতি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, যে তিনি একজন সাবালিকা। এবং নিজের সম্পর্কের জন্য যতদূর যেতে হয়, তিনি যাবেন। দ্যুতির কথায়, "দিদি বাড়াবাড়ি শুরু করাতেই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিই। আমার সঙ্গী সবসময়েই এ ব্যাপারে আমায় সমর্থন করেছে। আগামী দিনেও করবে।
তবে কোনও কিছুর প্রভাবই নিজের কেরিয়ারে ফেলতে চান না দ্যুতি। তাই দৃঢ়চেতা অ্যাথলিট জানিয়েছেন, "নিজের প্র্যাকটিস এবং ট্রেনিং চালিয়ে যাবো। আমার লক্ষ্য জুন মাসের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি গেম। আশা করি ওটায় উত্তীর্ণ হয়ে আগামী বছর ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ পাবো। ২০২০-র অলিম্পিকই আমার আসল লক্ষ্য। তাই এখন অনেক পরিশ্রম করতে হবে।"
তবে ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমে রুপো জেতা দ্যুতি চাঁদই প্রথম নন। এর আগে এমন হেনস্থার শিকার হয়েছেন আরও এক অ্যাথলিট। বাঙালি ওই অ্যাথলিটের নাম ছিল পিঙ্কি প্রামাণিক। তাঁর বিরুদ্ধে বাড়ির পরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ হেন অভিযোগ এনেছিলেন খোদ ওই পরিচারিকাই। দাবি করেছিলেন সমলিঙ্গের প্রতিই আকর্ষিত হন পিঙ্কি। ২০০৬ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন এই পিঙ্কি। ছিলেন সমাজের সম্মানীয় একজন। কিন্তু মুহূর্তেই দ্যুতির মতো তাঁকেও একঘরে করে দিয়েছিল এই সমাজ।