১৪৫ কিমি বেগে বিকেলেই তামিলনাড়ু-পুদুচেরিতে আছড়ে পড়বে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় নিভার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যে বাংলার উপর দিয়ে ঝড় গেছে। এ বার দুর্যোগের প্রহর গুনছে তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বুধবার বিকেলের মধ্যেই ল্যান্ড ফল হবে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় নিভারের। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া অতি গভীর ন
শেষ আপডেট: 25 November 2020 01:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যে বাংলার উপর দিয়ে ঝড় গেছে। এ বার দুর্যোগের প্রহর গুনছে তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বুধবার বিকেলের মধ্যেই ল্যান্ড ফল হবে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় নিভারের। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া অতি গভীর নিম্নচাপের ফলেই এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায়। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময়ে তার গতি থাকতে পারে ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার থেকে ১৪৫ কিলোমিটার।
ইরান এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং উত্তর-পূর্ব শ্রীলঙ্কায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে।
তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কারাইকল অঞ্চলে জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে বলে মনে করা হচ্ছে। রায়ালসীমা, তেলঙ্গানা, দক্ষিণ কর্নাটক ও অন্ধ্রের উপকূলে জারি হয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। সেখানে ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মৎসজীবীদের শনিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঙ্গলবার নিভারের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামী ও পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামীর সঙ্গে। মোদী টুইট করে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রকম সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।
তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে আজ জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত কিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের ৮০টি টিম পৌঁছে গিয়েছে উপকূলবর্তী এলাকায়।
গত মে মাসে বাংলার উপকূলে আঘাত হেনেছিল সুপার সাইক্লোন উমফান। তারপরে চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরে দ্বিতীয় সাইক্লোন সৃষ্টি হতে চলেছে।
২০ মে এ রাজ্যে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় উমফান। তার আগেই সুন্দরবন অঞ্চলের বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল প্রশাসন। কার্যত সেই একই কায়দায় পুদুচেরি ও তামিলনাড়ু প্রশাসন আগে থেকেই কয়েক লক্ষ মানুষকে উপকূল এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। তবে এও ঠিক এর পরেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়ে গেছে। ঘর বাড়ি, গাছ পালা, বিদ্যুতের পোল কী ক্ষয়ক্ষতি হবে কে জানে! সুন্দরবন তো এখনও উমফানের ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। ৬ মাস তো প্রায় হয়েই গেল।