দ্য ওয়াল ব্যুরো : ফের থানার মধ্যে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠল যুবতীকে। অভিযোগ তাঁকে নগ্ন করে থানার মধ্যে মারধর করেন পুলিশ আধিকারিকরা। এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি গুরগাঁওয়ের ডিএলএফ ফেজ ১ থানার। জানা গিয়েছে, এই এলাকায় একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন ৩০ বছরের ওই যুবতী। মঙ্গলবার সেই বাড়ির লোকেরা থানায় এসে যুবতীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনেন। যুবতীকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়।
যুবতীর স্বামীর অভিযোগ, থানায় যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রীকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে জোর করে নগ্ন করা হয়। তারপর তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বেল্ট ও লাঠি দিয়ে থানার একাধিক মহিলা ও পুরুষ পুলিশ আধিকারিক তাঁর স্ত্রীকে মেরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী যুবতীর গোপনাঙ্গেও মারা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যুবতীর বক্তব্য, তাঁকে প্রথমে চুরির কথা স্বীকার করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি জানান, এই অভিযোগ মিথ্যে। তারপরেই মারধর করা হয় তাঁকে।
এরপরেই বুধবার বেশ কিছু মানুষ এসে গুরগাঁওয়ের পুলিশ কমিশনার মহম্মদ আকিলের বাড়ির সামনে প্রতিবাদ দেখান। তারপরেই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন খোদ কমিশনার। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ডিএলএফ ফেজ ১ থানার এসএইচও সাবিত কুমার, তদন্তের দায়িত্বে থাকা এএসআই মধুবালা, হেড কনস্টেবল অনিল কুমার ও মহিলা কনস্টেবল কবিতার বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে কোনও রকমের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না তাঁরা।
গুরগাঁও পুলিশের পাবলিক রিলেশন অফিসার সুভাষ বোকেন জানিয়েছেন, "আমরা চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তাঁরা দোষী হন, তাহলে অবশ্যই শাস্তি পাবেন।"
এ বছরই মে মাসে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিওর রেল স্টেশনের মধ্যে এক মহিলাকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল রেল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটা ভিডিয়োও প্রকাশ হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও এই ব্যাপারে রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, এই ভিডিয়ো প্রায় ২ বছর পুরনো। সুতরাং এখন তার কোনও যৌক্তিকতা নেই।