দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ বিরোধী কথা বলায় যাত্রীকে সটান পুলিশে দিলে উবের চালক। এই ঘটনা বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের। সিএএ বিরোধী কথা বলার জন্য কবি বাপ্পাদিত্য সরকারকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক উবার চালক।
জানা গিয়েছে, উবারে বসেই ফোনে কারও সঙ্গে সিএএ বিরোধী কথাবার্তা বলছিলেন বাপ্পাদিত্য। সেসব শুনতে পেয়ে মাঝপথেই আচমকা গাড়ি থামিয়ে দেয় চালক। বাপ্পাদিত্যর কথায়, চালক তাঁকে বলে এটিএম থেকে টাকা তুলতে যাচ্ছেন। এরপর যখন ওই চালক ফিরে আসেন তাঁর সঙ্গে ছিলেন দু'জন পুলিশকর্মী। অভিযোগ, এরপর বাপ্পাদিত্যকে একপ্রকার জোর করেই ক্যাব থেকে নামিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওই দুই পুলিশকর্মী।
বাপ্পাদিত্য সরকারের সঙ্গে হওয়া ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকর্মী কবিতা কৃষ্ণণ। টুইট করে তিনি বলেছেন, বুধবার রাতে যেভাবে বাপ্পাদিত্যকে ভয় দেখানো হয়েছে তা সত্যিই উদ্বেগের। সারা দেশে সিএএ, এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে এক ভয়ানক পরিস্থিতি চলছে। যে যাকে পারছে সন্দেহ করছে। পুলিশ আমজনতাকে হেনস্থা করছে। পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন কবিতা।
https://twitter.com/kavita_krishnan/status/1225289755581018117
অন্যদিকে নিজের মন্তব্যে বাপ্পাদিত্য জানিয়েছেন, বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ জুহু থেকে কুর্লা যাওয়ার জন্য একটি ক্যাব বুক করেছিলেন তিনি। এরপর উবারে বসেই এক বন্ধুর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করছিলেন তিনি। দিল্লির শাহিনবাগে প্রায় দু'মাস ধরে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ চলছে। সেখানেই প্রতিবাদ মঞ্চে ওঠে 'লাল সেলাম' স্লোগান এবং তাই নিয়ে আমজনতার অস্বস্তির কথা নিজের বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন বাপ্পাদিত্য।
এরপরেই গাড়ি থামিয়ে টাকা তুলতে যাওয়ার নাম করে পুলিশ ডেকে আনেন উবার চালক। দুই পুলিশকর্মী গাড়ির কাছে এসে প্রথমেই বাপ্পাদিত্যকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কেন সঙ্গে একটা ডাফলি রেখেছেন। বাপ্পাদিত্যর ঠিকানাও জানতে চান তাঁরা। পুলিশকে সেসময় বাপ্পাদিত্য জানান যে তিনি জয়পুর থেকে এসেছেন এবং "মুম্বই বাগ"-এর সিএএ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে স্লোগানিং করছিলেন বলেই তাঁর সঙ্গে ডাফলি রয়েছে।
বাপ্পাদিত্যর অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের মাঝেই বারবার তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য দুই পুলিশকর্মীকে আর্জি জানাচ্ছিলেন ওই উবার চালক। এমনকি পুলিশকে ওই চালক বলেন বাপ্পাদিত্য একজন বামপন্থী। তিনি মুম্বইয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। শাহিনবাগের আদলে মুম্বইতেও প্রতিবাদ গড়ে তুলতে চাইছেন। ওই চালক আরও দাবি করেন যে বাপ্পাদিত্যর সব কথা তিনি রেকর্ডও করেছেন।
এরপরেই বাপ্পাদিত্যকে থানায় নিয়ে যান দুই পুলিশকর্মী। বাপ্পাদিত্য জানিয়েছেন, তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেছিলেন ওই রেকর্ড করা কথোপকথন শোনার। এবং তারপর সমস্যাজনক কিছু পাওয়া যায় কিনা সেটা বিবেচনা করে দেখার। বাপ্পাদিত্যর অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ওই চালক ফের বলেন, "আপনারা আমাদের দেশকে ধ্বংস করে দিতে চান। কী ভেবেছেন আমরা চুপচাপ বসে দেখব। কপাল ভাল যে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার বদলে আপনাকে থানায় নিয়ে এসেছি।" এরপর দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয় বাপ্পাদিত্যকে। রাত একটা নাগাদ তাঁর এক পরিচিত সমাজকর্মী এস গোহিল এসে তাঁকে থানা থেকে নিয়ে যান।
কবি এবং সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য জানিয়েছেন, গোটা ঘটনায় বেশ ভয় পেয়েছেন তিনি। বাপ্পাদিত্যর যে মন্তব্যের স্ক্রিনশট সমাজকর্মী কবিতা কৃষ্ণণ টুইট করেছিলেন সেখান থেকে জানা গিয়েছে যে, পুলিশকর্মীরা বাপ্পাদিত্যকে তাঁর বাবার মাসিক বেতন জিজ্ঞেস করেছিলেন। এমনকি চাকরি না করে কী ভাবে বাপ্পাদিত্য নিজের ভরণপোষণ করেন সে ব্যাপারেও প্রশ্ন করে পুলিশ। পাশাপাশি বাপ্পাদিত্যকে লাল স্কার্ফ না পরার এবং সঙ্গে ডাফলি না রাখার পরামর্শও দেয় তারা।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাড়া মিলেছে মুম্বই পুলিশ এবং উবের কর্তৃপক্ষের তরফে। মুম্বই পুলিশের তরফে টুইট করে বলা হয়েছে, বাপ্পাদিত্য যেন গোটা ঘটনার বিবরণ পুলিশকে জানান। তারা বাকিটা খতিয়ে দেখবে। অন্যদিকে উবের ইন্ডিয়া সাপোর্টের তরফেও টুইট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাপ্পাদিত্যর ঘটনা নিয়ে তারা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। অগ্রাধিকার দিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাপ্পাদিত্যকে তাঁর ট্রিপ ডিটেলস শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়েছে উবের কর্তৃপক্ষ।