দ্য ওয়াল ব্যুরো: এত দিন সংখ্যাটি ছিল আট হাজার মতো, তবে সম্প্রতি আরও দুশো সেনা যুক্ত হল চিনের আর্মিতে। শুধু তাই নয়, প্রাচীন চিনের যুদ্ধপদ্ধতি সম্বন্ধেও নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন পুরাতত্ত্ববিদরা।
আমরা বলছি চিনের টেরাকোটা আর্মির কথা, কয়েকজন কৃষক যা আবিষ্কার করেছিলেন একটি কুয়ো খুঁড়তে গিয়ে।
৪,৩০০ বর্গমিটার বিস্তৃত যে ঢিপিটি উৎখনন করে এর আগে এক সঙ্গে ছ’হাজার ‘টেরাকোটা আর্মি’ আবিষ্কার করেছিল চিন, ঠিক সেই জায়গায় উৎখনন করেই এবার আরও দুশোটি নতুন ‘সৈনিক’, বারোটি মাটির রণঅশ্ব, দু’টি রথ এবং প্রচুর সংখ্যায় ব্রোঞ্জের অস্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে গত দশ বছরে।
সবক’টি ঢিবি থেকে আবিষ্কৃত টেরাকোটা সৈনিকের সংখ্যা এত দিন পর্যন্ত ছিল আট হাজার মতো। নতুন বছরে সেই বাহিনীতে আরও দুশো জন যুক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সহজ কথায়, উৎখনন করে মাটির তৈরি আরও দুশোটি টেরাকোটা সৈনিক আবিষ্কার করেছে চিন। এ বছরের গোড়ায় চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা জিনহুয়া প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। তারা জানিয়েছে, এক নম্বর পিট থেকেই এগুলি আবিষ্কৃত হয়েছে।
[caption id="attachment_178708" align="aligncenter" width="600"]

টেরাকোটা আর্মি (উইকিমিডিয়া কমনস)[/caption]
মোট যে চারটি পিটে এখনও পর্যন্ত উৎখনন হয়েছে তার মধ্যে চতুর্থ পিটটি পুরোপুরি ফাঁকা, সেখান থেকে কিছুই পাওয়া যায়নি।
এই উৎখননের সঙ্গে যুক্ত প্রধান পুরাবিদ শেন মাওশেং বলেন, “প্রাচীন কালে কী ভাবে চিনের যুদ্ধ পরিচালনা করা হত, সে ব্যাপারে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।” তিনি জানিয়েছেন, আবিষ্কৃত টেরাকোটা সৈনিকের কারও হাতে ছিল ‘পোল’, কারও হাতে ধনুক। এ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে যে যুদ্ধে কার কী ধরনের ভূমিকা থাকত। প্রতিটি মূর্তির মাপই পূর্ণবয়স্ক মানুষের মাপের।
চিনের প্রথম সম্রাট কুইন শি হুয়াংয়ের সমাধিস্থল থেকে এক কিলোমিটার মতো পূর্ব দিকে কুয়ো খোঁড়ার সময় প্রথম এই মাটির সৈনিকের সন্ধান পান স্থানীয় কৃষকরা। সেটা ১৯৭৪ সাল। চিনের অধুনা সাংশি প্রদেশে ছিল কুইন শি হুয়াংয়ের রাজধানী শি’য়ান। সেখানে হাজির হয়ে উৎখনন শুরু করেন পুরাতত্ত্ববিদরা। আবিষ্কৃত হয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরাতাত্ত্বিক স্থান যেখানে মাটির নীচে কবরে রয়েছেন হাজার হাজার মাটির সেনা। আবিষ্কৃত হয় প্রচুর সংখ্যায় রণঅশ্ব, রথ প্রভৃতি।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে রাজা হন কুইন শি হুয়াং, পরে তিনি সম্রাট হন, চিনের প্রথম সম্রাট। তিনি পথঘাট সংস্কার করেন, সাম্রাজ্যের সর্বত্র ওজনের মান বেঁধে দেন। তিনি অমর হতে চাইতেন। তাই রাতের বেলায় ঘুরতে বেরোতেন যদি কোনও জাদুকের সন্ধান পান যিনি তাঁকে অমর করে দেবেন। মৃত্যু অনিবার্য, তাই মৃত্যুর পরেও তাঁকে পাহারা দেওয়ার জন্য কুইন শি হুয়াং টেরাকোটা আর্মি তৈরি করেছিলেন বলে মনে করেন পুরাতত্ত্ববিদরা।

পুরাতত্ত্ববিদরা মনে করেন খ্রিস্টপূর্ব ২২১ থেকে ২১০ অব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে টেরাকোটা আর্মি তৈরি করা হয়। অন্তত সাত লক্ষ শ্রমিক তিরিশ থেকে চল্লিশ বছর ধরে মাটির সেনাদের এই ‘কবর’ তৈরি করেছিলেন। মূলত চারটি ট্রেঞ্চ আবিষ্কৃত হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি থেকে টেরাকোটা সেনা আবিষ্কার করা হয়েছে। চিনের প্রথম সম্রাট কুইন শি হুয়াংয়ের এটাই অবশ্য ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ অবদান নয়। ইতিহাসে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান হল চিনের প্রাচীর।
সাংশি প্রদেশে উৎখননস্থান সুন্দর করে ঘিরে উৎসুকদের জন্য তা দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছে চিন সরকার। এখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ভিড় করেন। কয়েক বছর আগে দু'টি টেরাকোটা আর্মি ভারতে প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছিল। দেশের চারটি শহরে সেটি দেখানো হয়। কলকাতায় জাতীয় গ্রন্থাগারে সেটি রাখা হয়েছিল প্রদর্শনের জন্য ।