দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ফের বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। কলকাতায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক মাদক পাচারকারীকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মাদকের মূল্য অনেক।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স খবর পায়, বাইরের রাজ্য থেকে শহরে এসেছে এক মাদক পাচারকারী। ময়দান এলাকায় তার উপস্থিতির খবর দেওয়া হয়। সেইমতো শুক্রবার ময়দান থানা এলাকার গঙ্গাসাগর ট্রানজিট ক্যাম্পের কাছে একটি সাদা রংয়ের চারচাকা গাড়িকে আটক করে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স।
পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩৭টি ধূসর রংয়ের বাক্স উদ্ধার হয়। সেই বাক্সগুলি ভর্তি ছিল চরসে। পরে পরিমাপ করে দেখা যায়, মোট ২০ কেজি ২৫৯ গ্রাম চরস রয়েছে সেখানে। গাড়ির পিছনের সিটের নীচে যত্ন করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই মাদক। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে।
মাদক পাচারের অভিযোগে ওমপ্রকাশ কুমার নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বয়স ২৮ বছর। বাড়ি বিহারে। জেরায় জানা গিয়েছে ওই গাড়িতে করেই মাদক নিয়ে রাজ্যে ঢুকেছিল ওমপ্রকাশ। শনিবার ওই যুবককে আদালতে তোলা হবে বলে খবর। তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানাবে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই চরসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ গাড়িতে যে চরস উদ্ধার হয়েছে তার মোট দাম এক থেকে দেড় কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ চরস ওই যুবক কোথায় বিক্রি করতে যাচ্ছিল, তার খোঁজ করছে পুলিশ।
কলকাতার বিভিন্ন নাইট ক্লাব ও বারের সঙ্গে মাদক চক্রের যোগের খবর এর আগেও অনেক বার উঠে এসেছে। এইসব বার ও নাইট ক্লাবে অল্প বয়সের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে মাদকের নেশা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে গোপনে বিক্রি হচ্ছে মাদক। আর এই মাদকের নেশায় নানা রকমের অপরাধমূলক কাজ করছে অনেকে। এর পিছনে রয়েছে অনেক বড় চক্র।
গত কয়েক বছরে কলকাতা পুলিশে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স ও নারকোটিক্স সেল বেশ কিছু নাইট ক্লাব ও বারে হানা দিয়ে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত অনেককে গ্রেফতার করেছে। এই মুহূর্তে লকডাউনের কারণে বার ও নাইট ক্লাব বন্ধ। তাহলে কোথায় ওই মাদক বিক্রি করতে শহরে এসেছিল ওমপ্রকাশ, সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।