দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্তত ২৫ বার কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে খুন করেছেন এক মহিলা। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের প্রতি অভিযুক্তের কীসের এত বিদ্বেষ তা জানতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। অভিযুক্ত মহিলা জানিয়েছেন, বিগত ১৫ বছর ধরে তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করেছে ওই ব্যক্তি। গত ১২ অক্টোবরও মহিলাকে ধর্ষণ করতে গিয়েছিল সে। তবে এবার আর সুযোগ পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে নিজের উপর হয়ে আসা অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন নির্যাতিতা। সুযোগ বুঝে ফাঁক পেতেই এবার তাই আর শত্রুর শেষ রাখেননি তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে গুনা জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ব্রিজভূষণ শর্মা। গুনার অশোক নগর এলাকার বাসিন্দা ছিল এই ব্যক্তি। অভিযুক্ত মহিলাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনে দায়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ব্রিজভূষণকে খুন করার পর অভিযুক্ত মহিলা নিজেই পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তিনি একটা খুন করেছেন।
পুলিশের দাবি জেরায় মহিলা জানিয়েছেন ২০০৫ সাল থেকে এই ব্রিজভূষণ তাঁকে ধর্ষণ করত। মহিলা আরও জানিয়েছেন যে মৃত ব্যক্তি তাঁর প্রতিবেশী ছিলেন। সেই সময় এই মহিলার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সেই সময় অর্থাৎ ২--৫ সালে তাঁকে প্রথমবার ধর্ষণ করেছিল ব্রিজভূষণ। গোটা ঘটনার ভিডিও তুলে রাখে সে। পরে সেটা দেখিয়েই মহিলা তথা তৎকালীন কিশোরীকে ভয় দেখাত ব্রিজভূষণ। কাউকে কিছু জানালে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া শাসানি দিত। এরপর গুনা জেলারই এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় মহিলার। কিন্তু তাতেও থামেনি নির্যাতন। বরং অত্যাচার ও হুমকির মাত্রা দিনদিন বাড়তে থাকে।
গত সোমবার ১২ অক্টোবর রাতে হঠাৎই মহিলার বাড়িতে হাজির হয় ব্রিজভূষণ। সেই সময় কর্মসূত্রে বাইরে ছিলেন তাঁর স্বামী। মহিলার অভিযোগ চূড়ান্ত মদ্যপ অবস্থায় তাঁর বাড়িতে হাজির হয়েছিল ব্রিজভূষণ। তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। সেই সময় মহিলার দুই মেয়ে পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিল। তাদেরকেও হেনস্থা করার চেষ্টা করে ব্রিজভূষণ। আর মাথা ঠিক রাখতে পারেননি মহিলা। রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে তেড়ে যান ব্রিজভূষণের দিকে। তারপর এলোপাথাড়ি ভাবে কোপাতে থাকেন তাকে। খানিকক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় ব্রিজভূষণের। এরপর থানায় ফোন করে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন মহিলা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।