
শেষ আপডেট: 29 September 2019 11:31
ত্রিবান্দ্রমের বাসিন্দা ভার্গিসে পেশায় একজন ট্যুর অপারেটর। তাই সবসময় শহরে থাকা হয় না। প্রথম দিকে তিনি বাইরে গেলেই অনিয়ম হত শ্যাডোর খাওয়া-দাওয়ার। ঠিক সময় সঠিক খাবার না পেয়ে শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ত শ্যাডো। মাঝে মাঝে অসুস্থও হয়ে পড়ত। অনেকদিন ধরেই এসব সমস্যা এড়ানোর উপায় খুঁজছিলেন ভার্গিসে।
অবশেষে মাথায় খেলেছিল বুদ্ধি। স্মার্টফোন বের করে ঝটপট শ্যাডো-র নামে ফুড ডেলিভারি অ্যাপে খুলে ফেলেছিলেন একটা অ্যাকাউন্ট। ভার্গিসের কাজ দেখে অনেকেই বলেছিলেন, আদিখ্যেতা করছেন তিনি। অবশ্য সাধুবাদ জানিয়েছেন অসংখ্য পশুপ্রেমী এবং বিভিন্ন কুকুরপ্রেমী সংগঠন। ভার্গিসে জানিয়েছেন, "সবসময় ও আমার পায়ে পায়ে ঘুরত। যেখানে যেতাম সেখানেই হাজির হয়ে যেত। মায়া পড়ে গিয়েছিল ওর উপর। আমায় এত ফলো করত বলে সাধ করে নাম রেখেছিলাম শ্যাডো। যবে থেকে আমি ওকে খাওয়াতে শুরু করেছি, আর রাস্তার খাবার ছুঁয়ে দেখেছি শ্যাডো। তাই আমি দেশে বা শহরে না থাকলেও ওর খাবারের ব্যবস্থা করা আমার দায়িত্ব। সেটাই করেছি।"
কিন্তু ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার এলেও সেটা শ্যাডোর কাছে পৌঁছয় কী ভাবে?
ভার্গিসে জানিয়েছেন, অ্যাপের অ্যাকাউন্টে তাঁর ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে। দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকুন না কেন শ্যাডো-র জন্য খাবার অর্ডার করেন তিনি নিজেই। এরপর খাবার এলে তাঁকে ফোন করে ডেলিভারি বয়। তখন তিনি বুঝিয়ে বলে দেন নির্দিষ্ট ঠিকানায় গেটের কাছে যে কুকুরটা বসে রয়েছে তাকে দিতে হবে খাবারের প্যাকেট। ভার্গিসে দেশের বাইরে থাকলে এই নিয়মেই শ্যাডো-র কাছে পৌঁছে যায় খাবার। যে অ্যাপার্টমেন্টে ভার্গিসে থাকেন সেখানকার গেটেই রোজ নির্দিষ্ট টাইমে খাবারের জন্য অপেক্ষা করে শ্যাডো। গেটে থাকা নিরাপত্তারক্ষী রাধাকৃষ্ণননকে বলাই থাকে। তিনি এসে প্যাকেট খুলে শ্যাডোকে একটু সাহায্য করেন। বাকি কাজে ছোট্ট শ্যাডো একাই একশো। চেটেপুটে সাফ করে দেয় খাবারের পাত্র। ও চলে গেলে জায়গা পরিষ্কার করে দেন নিরাপত্তারক্ষীই। রাধাকৃষ্ণনন বলেন, "সময় জ্ঞান মারাত্মক এই কুকুরের। কোনওদিনও লেট করে না। ঠিক সময়ে হাজির হবেই।"
ভার্গিসের কথায়, "দেশে থাকলে নিজে হাতে সবটা করি। ওকে খাইয়েও দিই। কিন্তু বাইরে থাকলে ওই নিরাপত্তারক্ষীই শ্যাডোর সব দায়িত্ব নেন। খুব যত্ন নিয়েই দায়িত্ব সামলান তিনি। আমি নিশ্চিন্তে থাকি।" ভার্গিসে আরও জানিয়েছেন, "প্রথম প্রথম আমার কথা শুনে অবাক হয়ে যেত ডেলিভারি বয়রা। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। অনেকে তো চিনেও গেছে শ্যাডোকে। আশেপাশের অনেক লোকই আমায় বাঁকা চোখে দেখত। এখনও অনেকেই অনেক কথা বলে। আমি পাত্তা দিই না। কারণ ওর প্রতি কোনও অবহেলা করতে আমি রাজি নই।"