নির্ভয়া-আসামিদের মৃত্যু নিশ্চিত করলেন চিকিৎসক, ফাঁসিকাঠ থেকে দেহ নামিয়ে পাঠানো হল ময়নাতদন্তে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম চার জনের ফাঁসি হল একসঙ্গে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ঠিক সময়ে ফাঁসিকাঠে চড়ানো হয় চার জনকে। এর পরে চলে ১২০ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন। কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে পাঁচটায় ট্রিগার টেনে একসঙ্গে চার অভিযুক্তের ফাঁসি দেন
শেষ আপডেট: 20 March 2020 01:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম চার জনের ফাঁসি হল একসঙ্গে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ঠিক সময়ে ফাঁসিকাঠে চড়ানো হয় চার জনকে। এর পরে চলে ১২০ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন। কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে পাঁচটায় ট্রিগার টেনে একসঙ্গে চার অভিযুক্তের ফাঁসি দেন ফাঁসুড়ে পবন। নিয়ম মেনে ৩০ মিনিট ফাঁসিকাঠেই ঝোলে দেহগুলি। তার পর কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয় দেহ। শেষে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করেন যে চার জনেই মৃত কি না। তিনি নিশ্চিত করলে কুয়ো থেকে দেহ তুলে নিয়ে চলে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার এতদিনে শেষ হল, এই গণ-ফাঁসির সঙ্গে। আসামি পবন গুপ্ত, অক্ষয় সিংহ ঠাকুর, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংহকে মৃত্যুর পরোয়ানা জারি হওয়ার পর থেকে সাজা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আইসোলেশন সেলে রাখা হয়েছিল।
যেহেতু সূর্যর আলো ফোটার আগেই ফাঁসি প্রক্রিয়া সমাধা করতে হয়, তাই রাত থাকতেই ডেকে তোলা হয় অপরাধীদের। স্নান করানো হয়, পরানো হয় নতুন পোশাক। আসামিদের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনান ম্যাজিস্ট্রেট। এর পরে মুখে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় তাদের। ফাঁসিকাঠ দেখতে দেওয়া হয় না আসামিদের।
তাদের ফাঁসিকাঠে তোলার সময়ে হাত ধরে থাকেন ওয়ার্ডাররা। ফাঁসির দড়ির ঠিক নীচে দাঁড় করানোর পরে তাদের পা বেঁধে দেন ফাঁসুড়ে। এর পরে তিনিই গলায় দড়ি পরিয়ে দেন। ফাঁস ঠিকমতো লাগানো হয়েছে কিনা এবং গলায় দড়ি ভাল ভাবে লাগানো হয়েছে কিনা, সেটা পরীক্ষা করে দেখে নেন জেল সুপার। সবশেষে চূড়ান্ত নির্দেশ মিললে ফাঁসি দেন ফাঁসুড়ে।
নির্ভয়া কাণ্ডের এই অপরাধীদের ফাঁসির প্রস্তুতি সারা হয়েছিল গত ডিসেম্বরেই। তিহাড় জেলের আধিকারিকদের সঙ্গে সব ব্যবস্থা পরিদর্শনও করেন পূর্ত দফতরের এক এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। ফাঁসির আগের সন্ধেয় ফের খতিয়ে দেখা হয় সব। শেষমেশ আজ, শুক্রবার, ভোর সাড়ে পাঁচটায় হয়ে যায় ফাঁসি। ময়নাতদন্তের পরে সৎকার করা হবে দেহ।