দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে ‘করোনা হটস্পট’। সেই তালিকায় রয়েছে রাজধানী শহর দিল্লিও। এখানকার একাধিক এলাকাকে করোনা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এইসব এলাকায় থেকে কারও বাইরে বেরনোর অনুমতি নেই। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রশাসনের তরফে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সেই মতোই হটস্পটগুলির দায়িত্বে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। খোলা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। রয়েছে নির্দিষ্ট টেলিফোন নম্বর। যেখানে ফোন করে বাসিন্দারা তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কথা প্রশাসনকে জানাতে পারবেন। কিন্তু এইসব নম্বর কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে গত কয়েকদিনে যে সব জিনিসপত্র পাঠানোর অনুরোধ এসেছে তা দেখে হতবাক আধিকারিকরা।
গরম শিঙাড়া, চিকেন বিরিয়ানি, মাটন, পিৎজা, মিষ্টি----বাসিন্দাদের অনুরোধের তালিকায় রয়েছে সবই। এগুলোই তাঁদের কাছে এখন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হয়ে উঠেছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দিল্লির প্রান্ত এলাকা নারেলা থেকে বারবার এসেছে চিকেন বিরিয়ানি আর মাটনের অনুরোধ। দক্ষিণ দিল্লির একাধিক এলাকা এর মধ্যেই করোনা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে সিল করা হয়েছে। নিজামুদ্দিনের মতো হটস্পট রয়েছে এখানে, যেখান থেকে বিপুল পরিমাণ কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রায় সব প্রান্তেই।
কিন্তু এই দক্ষিণ দিল্লির হটস্পট এলাকার বাসিন্দারা গরম শিঙাড়া এবং পিৎজা পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। পূর্ব এবং মধ্য দিল্লির একাধিক অংশ থেকে এসেছে মিষ্টি পাঠানোর আবেদন। এক সিনিয়র অফিসারের কথায়, “ওইসব এলাকা করোনা হটস্পট। সংক্রমণ রুখতে সিল করা হয়েছে গোটা এলাকা। আমাদের কাজ শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় বা জরুরি কোনও জিনিস পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এইসব বিলাসিতার অনুরোধ রক্ষা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।“
দিল্লিতে ইতিমধ্যেই ৭৬টি এলাকাকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুসারে এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২০০৩। মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭২ জন। আর সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১৭,২৬৫। মৃত্যু হয়েছে ৫৪৩ জনের। অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১৪,১৭৫। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৫৪৭ জন।