দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশ থেকে আসা বিমানের ক্ষেত্রে আগেই ভারতে ঢোকার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ঘরোয়া বিমান চলাচলও বন্ধ করে দিল কেন্দ্রে মোদী সরকার। জানিয়ে দেওয়া হল, আগামীকাল রাত ১২টা থেকেই আর কোনও ঘরোয়া বিমান চলাচল করতে পারবে না। তবে শুধুমাত্র পণ্য বহনকারী বিমান এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন ( ডিজিসিএ )-এর তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে দেশজুড়ে সব ঘরোয়া বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। সেইজন্য সব বিমানসংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এমনভাবে সূচি বানানোর জন্য যাতে আগামীকাল রাত ১২টার মধ্যে সব বিমান নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারে। কতদিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে তা অবশ্য জানানো হয়নি। পণ্য বহনকারী বিমানকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।
এর আগেই এক সপ্তাহের জন্য সব বিদেশি বিমানের অবতরণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ থেকে যাতে করোনা আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি ভারতে আসতে না পারেন, তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘরোয়া বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে গতকাল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু কেজরিওয়ালের প্রস্তাব মোদী সরকার খারিজ করে দেয়। ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের তরফে বলা হয় যে, রবিবার থেকে আপাতত সাত দিন কোনও ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট ভারতে ঢুকবে না। কিন্তু ডোমেস্টিক ফ্লাইট চলবে।
সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আবেদন করেন, কলকাতা ও বাগডোগরা বিমানবন্দরে বাইরে থেকে সমস্ত বিমান আসা যেন অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ডোমেস্টিক তথা ঘরোয়া পরিষেবাও যাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে বিমান আসা স্থগিত রাখলে তবেই সংক্রমণের উৎস কার্যকরী ভাবে বন্ধ করে দেওয়া যাবে এবং প্রকৃত অর্থে বাংলায় লক ডাউন বাস্তবায়িত করা যাবে।
কলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট আসা নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কলকাতায় প্রথম যে দুটি পজিটিভ কেস ধরা পড়েছে তাঁরা দু’জনেই বাইরে থেকে সংক্রমণ নিয়ে রাজ্যে এসেছেন। শুধু ফ্লাইট নয়, পশ্চিমবঙ্গে দূরপাল্লার ট্রেন যাতে আর প্রবেশ না করে সেজন্য মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা রেল মন্ত্রককেও চিঠি লিখেছিলেন। বাইরের রাজ্য থেকে বাংলায় এক্সপ্রেস বা মেল ট্রেন ঢোকা অবশ্য এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় বাইরের রাজ্য থেকে বাংলায় বাস আসাও বন্ধ করে দিয়েছে নবান্ন।