দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকার আর সাংবিধানিক প্রধানের মধ্যে বিতণ্ডা এখন বঙ্গ রাজনীতিতে রুটিনে পরিণত কয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক দূরে দক্ষিণের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও একই ছবি। পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নারায়ণ স্বামী সেখানাকার লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণবেদীকে ‘হিটলারের বোন’ বলে আক্রমণ শানালেন।
মঙ্গলবার প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিবসের অনুষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে নারায়ণস্বামী বলেন, “কিরণ বেদী জার্মান স্বৈরশাসক হিটলারের বোনের মতো আচরণ করছেন। নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। রুটিন প্রশাসনিক কাজে অযথা নাক গলাচ্ছেন।”
পুদুচেরির কংগ্রেস সদর দফতরে মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে লেফটেন্যান্ট গভর্নর সই করছেন না। সেই ফাইল ফিরিয়ে দিচ্ছেন। যে দিন এটা হল। সেদিন আমার রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল।” এমনিতে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভা কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সাংবিধানিক প্রধান তাতে সিলমোহর দেন এটাই স্বাভাবিক ছবি। যদিও সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রধান তা নাও দিতে পারেন। কিন্তু সচরাচর তা দেখা যায় না। পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দক্ষিণের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা-ই হয়েছে। ফাইল গিয়েছে। অথচ তা সই না করেই সরকারের সচিবালয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসকর্মীদের সামনে নারায়ণ স্বামী এ-ও বলেছেন, “২০১৬ সালের যে দিন থেকে কিরণ বেদী পুদুচেরির সাংবিধানিক প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন, সে দিন থেকে রাজ্য সরকারকে পাশ কাটিয়ে সব কিছু করতে চাইছেন।”
এ নিয়ে কোর্টে মামলা করেছিল সরকার। মদ্রাস হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে গিয়ে নারায়ণস্বামী সরকার বলেছিল, সাংবিধানিক প্রধান এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। আদালত কিরণ বেদীকে সংযত হওয়ার কথাও বলেছিল। কিন্তু তার পাল্টা ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছেন কিরণ বেদীও। সেই মামলা এখনও আদালতে ঝুলে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন বিধায়কের সিঙ্গাপুর সফর নিয়েও কিরণ বেদী নানান কথা বলেছেন বলে ওই অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন নারায়ণস্বামী। তাঁর কথায়, “সাংবিধানিক প্রধান এমন কথা বলছেন, যেন আমরা মন্ত্রী বিধায়করা ওঁর চাকর!” যদিও সমস্ত অভিযোগও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন দিল্লির পুলিশ কমিশনারের তরফে।
অনেকে নারায়ণ স্বামীর এই অভিযোগ শুনে অনেকেই পুদুচেরিকে এখনকার বাংলার দ্বিতীয় সংস্করণ বলছেন। তাঁদের মতে, এখানকার শাসকদলও রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজের অভিযোগ তুলছেন। রোজই শাসক দলের কোনও না কোনও নেতা রাজ্যপালকে বিঁধছেন, সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর অভিযোগ তুলছেন। শুধু দক্ষিণের এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংঘাত আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে গিয়েছে। বাংলায় এখনও তা হয়নি।