
শেষ আপডেট: 3 May 2023 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএল-এর গুজরাত টাইটান্স দলের তারকা তথা ভারতীয় সিনিয়র দলের অন্যতম সেরা পেসার মহম্মদ শামি ফের বড় বিপাকে। এবার শামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী হাসিন জাহান (Nasin Jahan against Md Shami)! তাঁর অভিযোগ, দেশের হয়ে বিভিন্ন সফরে থাকাকালীন একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন শামি। প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে ব্যাভিচারের মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন হাসিন।
হাসিনের এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আলিপুর আদালত। পরে সেশন্স কোর্টে আবেদন করে রেহাই পেয়েছিলেন শামি। এবার সুপ্রিম কোর্ট হাসিনের আবেদনের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে সেও দেখার বিষয়।
তবে নতুন করে এই ঘটনা মাথা তোলায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে, যে পরকীয়া নিয়ে শরিয়ত আইনে (Muslim Shariyat Law) কী বলা হয়েছে?
বেঙ্গল ইমামস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহম্মদ ইয়াহিয়া এই বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন। তিনি জানালেন, পরকীয়া নিয়ে ইসলাম শরিয়ত আইনে যা বলা রয়েছে, তা অত্যন্ত কঠোর। কোনও বিবাহিত মুসলিম পুরুষ যদি স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে যৌন সংসর্গে জড়িয়েছেন বলে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁকে পাথর ছুড়ে মারার নিদান দেওয়া রয়েছে এই শরিয়ত আইনে।
তবে একটা শর্ত রয়েছে। সেই অভিযোগ প্রমাণিত তখনই হবে, যদি তা চারজন সত্যবাদী ব্যক্তি দ্বারা প্রত্যয়িত হয়। অর্থাৎ চারজন সাক্ষীকে বয়ান দিতে হবে, যে তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেখেছেন পর-মহিলার সঙ্গে যৌন সংসর্গ করতে।
এক্ষেত্রে যৌন সংসর্গ বিষয়টিতে বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে আইনে। অন্য মহিলার সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, গল্প করা, সময় কাটানো– এসব কিন্তু পরকীয়ার শাস্তির আওতায় পড়ছে না ইসলামিক শরিয়ত আইনে। যৌন সংসর্গের প্রমাণ মিললে তবেই অভিযোগও প্রমাণিত হবে।
তবে সবচেয়ে বড় কথা, এই আইন আদৌ এ দেশে প্রযোজ্যই নয়। কেন?
মহম্মদ ইয়াহিয়া জানালেন, একমাত্র ইসলামিক রাষ্ট্রেই এই আইন বলবৎ। এই মুহূর্তে বিশ্বে অফিসিয়ালি ঘোষিত কোনও ইসলামিক দেশ নেই। মুসলিম জনসংখ্যার আধিক্যের ভিত্তিতে মুসলিম কান্ট্রি রয়েছে একাধিক। তবে ইসলামিক রাষ্ট্র কিন্তু আলাদা, তা নেই। ফলে ইসলামি শরিয়ত আইন প্রয়োগ করারই জায়গা নেই সেই অর্থে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই আইনেই ফাঁক রয়েছে বলে মত ইয়াহিয়ার। কারণ তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা, কোনও বিবাহিত পুরুষই অন্য মহিলার সঙ্গে সংসর্গে জড়ানোর সময়ে চারজন সাক্ষী রাখবেন না। যিনি অভিযোগকারী, তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়, ব্যাভিচার বা পরকীয়া নিজের চোখে দেখেছেন এমন চারজনকে আদালতে এনে হাজির করানো। তর্কের খাতিরে যদি ধরা হয় যে, মহম্মদ শামির স্ত্রী যদি শরিয়ত আইনের প্রয়োগ চেয়েছেন। তা হলে তা গ্রহণযোগ্যই হবে না চার জন ব্যক্তি প্রত্যয়িত না করলে।
সেই কারণে শরিয়ত আইন নয়, এ দেশে পরকীয়া বা ব্যাভিচারের ফৌজদারি অভিযোগের শাস্তি হবে ভারতীয় সংবিধান মেনেই। যদিও কিছুদিন আগেই পরকীয়ার উপর থেকে আইনি নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। সে কারণে এক্ষেত্রে শামির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিবিআইকে হাইকোর্ট: আপনারা এত ভার বইতে পারবেন? কী বলল কেন্দ্রীয় এজেন্সি