
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 21 November 2024 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘পুলিশ-প্রশাসনের একাংশও টাকা খাচ্ছে, যার দায় তৃণমূল নেতাদের ঘাড়ে এসে পড়ছে।‘—বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নের সভাঘর থেকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কারণকেই রোজকার মূল্যবৃদ্ধির জন্যও দায়ী করেন তিনি।
সম্প্রতি বাজারে সমস্ত আনাজ, শাক, সব্জি, আলু, পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। রাজ্যের টাস্ক ফোর্স নিয়মিত হানা দিচ্ছে একাধিক বাজারে। তার মধ্যেও ফড়েদের দাপট বেড়েই চলেছে, যার ফলস্বরূপ সাধারণ মধ্যবিত্তদের পকেটে প্রবল টান পড়ছে। এই নিয়েই রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের একাংশকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা।
এদিন বৈঠকে বসে মমতা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি একটা পয়সাও নিই না। তাহলে অন্য কেউ নিলে কেন ছাড় পাবে?’ এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বেচারাম মান্না প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন, 'আমার টাকার দরকার নেই। আমার দলের জন্য টাকার দরকার হলে প্রয়োজনে আমি মানুষের কাছে আঁচল পেতে টাকা নেব। কেউ কেউ ভাবে একে ধরি ওকে ধরি। মাথায় রেখো কেউ বাঁচাবে না, আমি তো অন্তত বাঁচাব না।'
বাংলায় আলুর দাম বৃদ্ধি নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ‘আলু উৎপাদনে আমরা স্বনির্ভরশীল। তবু আমাদের রাজ্যের মানুষকে কেন বাড়তি দাম দিয়ে আলু কিনে খেতে হবে?’
এরপরই প্রশাসনের শীর্ষ কতার্দের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি তো বলেছিলাম, তোমাদের আলু যদি অতিরিক্ত হয়েও যায় আইসিডিএস, মিড ডে মিলে নিয়ে নেব। তারপরও কীভাবে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলে বাইরে আলু পাঠানোর সাহস হয়? এখনই পদক্ষেপ করুন।’
এ প্রসঙ্গে নিচুতলার পুলিশকর্মীদেরও একহাত নিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলেন, ‘তুমি হয়তো চেষ্টার কসুর রাখছো না। কিন্ত সরি টু সে, নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের অনেকে ঘুষ খেয়ে সীমান্ত দিয়ে আলু প্রয়োজনের তুলনায় বাইরে পাঠাতে সাহায্য করছে।’
এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতা ৫ টাকা খেলে পরে বলা হয় ৫০০ টাকা খেয়েছে। নেতারা টাকা খাওয়ার আগে তবু ভাবে। নিচুতলার কিছু কর্মী এবং পুলিশের কিছু লোক, যারা সরকারকে ভাল বাসে না, তারা এসব নিয়ে ভাবে না। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থটা দেখে।’