
মহুয়া মৈত্র - ফাইল চিত্র।
শেষ আপডেট: 24 March 2024 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দিনভর মহুয়া মৈত্রের তিন ঠিকানায় পৌঁছে যায় সিবিআই আধিকারিকেরা। কলকাতার আলিপুর থেকে কৃষ্ণনগরের সাংসদ কার্যালয়। তারপর সন্ধ্যায় করিমপুরের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। আর এই তল্লাশির বিরুদ্ধে এবার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানালেন মহুয়া মৈত্র। কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান সংস্থার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী।
লোকসভা নির্বাচনে আর কয়েকদিন বাকি। জোর কদমে চলছে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রচার। সেই আবহে শনিবার মহুয়ার কলকাতার ফ্ল্যাট, কৃষ্ণনগরের নির্বাচনী দফতর এবং করিমপুরে তাঁর ভাড়া বাড়িতে দফায় দফায় তল্লাশি চালায় সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের আধিকারিকেরা। টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগে মহুয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আর সিবিআইয়ের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন মহুয়া।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে মহুয়া জানিয়েছেন, নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি চালু হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। সেই আবহেই তাঁর বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চালিয়েছে গোয়েন্দারা। কমিশনের কাছে তাঁর আর্জি, "দেশে আদর্শ আচরণবিধি চালু থাকাকালীন সিবিআইয়ের তদন্তের কাজ কীভাবে চলবে সেই নিয়ে কমিশনকে একটি নির্দেশিকা তৈরি করে দিতে হবে। নির্বাচনী আদর্শ আচরণ বিধি চালুর পর কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তদন্ত নিয়ে নির্দেশিকা বেঁধে দেওয়া উচিত।"
What is happening @ECISVEEP? Humbly request for some superintendance & control over this rogue state. pic.twitter.com/OHjFAUf13L
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) March 24, 2024
কমিশনকে অবিলম্বে কয়েকটি দায়িত্ব পালনের আর্জি জানিয়েছেন মহুয়া। চিঠি মারফত তিনি লিখেছেন, ১০ মার্চ তৃণমূলের তরফে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। সব সংবাদমাধ্যমেই সেই খবর দেখানো হয়েছে, তা জানার পরও একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর প্রচারে বিঘ্ন ঘটাতে, তাঁর সম্পর্কে মানুষের মনে বিরূপ ধারণা করতেই এই তল্লাশি বলে দাবি তৃণমূল প্রার্থীর। মহুয়া স্পষ্ট অভিযোগ, "তল্লাশিতে কিছু পায়নি সিবিআই। কেন্দ্রের সরকারে থাকা প্রভুদের খুশি করতেই বেআইনি কাজ করেছেন গোয়েন্দারা।"
গত ডিসেম্বরে মহুয়ার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের জেরে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হয়েছিল। সংসদীয় প্যানেলের সুপারিশে সংসদে ভোটাভুটি করে লোকসভা থেকে মহুয়াকে বহিষ্কার করা হয়। গত ১৯ মার্চ সংসদে টাকা নিয়ে প্রশ্নকাণ্ডে মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল লোকপাল। বরখাস্ত হওয়া তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘গুরুতর’ বলে লোকপালের নির্দেশিকায় বর্ণনা করা হয়। এরপর সিবিআইয়ের তরফে মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়।