'সেক্স র্যাকেটে নাম আছে', পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুয়ো ফোন, রাজারহাটে বড় চক্রের পর্দা ফাঁস
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ ইনস্পেক্টর পরিচয় দিয়ে ফাঁদে ফেলছিল প্রতারকরা। ফোনের ওপারের কণ্ঠস্বর বলছিল, 'আপনার নাম সেক্স র্যাকেটে জড়িয়েছে। ' নাম মুছতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। এই ফাঁদে পা দিয়ে টাকাপয়সা খুইয়েছেন অনেকে। সম্প্রতি এক ব্যক্তির অভি
শেষ আপডেট: 3 February 2022 06:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশ ইনস্পেক্টর পরিচয় দিয়ে ফাঁদে ফেলছিল প্রতারকরা। ফোনের ওপারের কণ্ঠস্বর বলছিল, 'আপনার নাম সেক্স র্যাকেটে জড়িয়েছে। ' নাম মুছতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। এই ফাঁদে পা দিয়ে টাকাপয়সা খুইয়েছেন অনেকে। সম্প্রতি এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে এই গ্যাংয়ের পর্দা ফাঁস করেছে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখা।
তদন্তকারীরা বলছেন, প্রতারকের দল নিজেদের পুলিশ ইনস্পেক্টর পরিচয় দিয়ে ভুয়ো কল করছিল। শহরের অনেকে এই প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছেন। রাজারহাটের সাপুরজি আবাসনে গা ঢাকা দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল অপরাধীরা। খবর পেয়ে সাপুরজিতে হানা দিয়ে এক নাবালক সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, এক ব্যক্তির অভিযোগ করেন লালবাজারের সাইবার বিভাগে। বলা হয়, কলকাতা পুলিশের ইনস্পেক্টর পরিচয় দিয়ে তাঁকে কেউ ফোন করেছিলেন। ফোনে বলা হয়েছিল, তাঁর নাম জড়িয়ে পড়েছে মধুচক্রের কোনও ঘটনায়। ফোনেই পুলিশের খাতা থেকে নাম মুছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু এর বিনিময়ে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।
ফোনে কথা বলার ধরন ও এমন দাবি শুনেই সন্দেহ হয় সেই ব্যক্তির। কোনও প্রতারণা চক্র কাজ করছে বলে সন্দেহ করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই গোটা বিষয়টা লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখাকে জানান। ওই ব্যক্তির কললিস্ট চেক করেন তদন্তকারীরা। অপরাধীদের লোকেশন ট্র্যাক করে সোজা পৌঁছে যান সাপুরজি আবাসনে।
তদন্তকারী অফিসাররা বলছেন, আবাসনের এল ও সি ব্লকে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল ওই গ্যাং। সেখানে বসেই তোলাবাজি চালাত। ভুয়ো ফোনে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করত। সাপুরজি আবাসনের এল ও সি ব্লকে হানা দিয়ে মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যার মধ্যে একজন নাবালক। ধৃতদের থেকে উদ্ধার হয়েছে সিমকার্ড-সহ সাতটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি এটিএম কার্ড। একটি বাইকও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানাচ্ছে, ধৃতরা সকলেই বিহারের বাসিন্দা। এ শহরে এসে টাকা লুঠের ছক কষেছিল। গোয়েন্দা অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন, অন্য কোনও বড় চক্র এর পেছনে কাজ করছে কিনা। ধৃতরা আপাতত জেরায় নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের হদিশ পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'