
দুঁদে সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজা।
শেষ আপডেট: 19 August 2024 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ছে সিবিআই। কলকাতা পুলিশের তদন্তে গাফিলতি দেখতে পাওয়ার কারণে গত মঙ্গলবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তার পরেই একদিনের মধ্যে বুধবার সকালেই শহরে চলে আসে সিবিআই। তার পরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা আরজি কর হাসপাতাল, লালবাজার, নির্যাতিতার বাড়ি যাওয়া আসা করতে থাকে একটানা। জেরাও করতে থাকে একাধিক ব্যক্তিকে। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকেই পরপর চারদিন ডেকেছে তারা।
তার পরেও প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের গতি নিয়ে। অনেকেই বলছেন, রবিবার পর্যন্ত যে তদন্তের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সিবিআইকে, তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। এই অবস্থায় এবার আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে যোগ দিলেন সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজা। এর আগে উত্তরপ্রদেশের হাথরস ধর্ষণ কাণ্ডের তদন্ত করেছিলেন তিনি।
২০২০ সালে হাথরসের ১৯ বছরের দলিত তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন। অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধারের পরে ১১ দিন হাসপাতালে লড়াই করার পরে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই তরুণীর। উচ্চবর্ণের চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠে অভিযোগ। তরুণীর কাঁধে ও গোপনাঙ্গে ভয়ানক আঘাতের প্রমাণও মেলে ময়নাতদন্তে। এর পরে তরুণীর দেহ পরিবারের হাতে না দিয়ে, রাতের অন্ধকারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও সরকারি কর্তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় সারা দেশে।
সে সময়ে এই তদন্তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সিবিআই অফিসার সীমা। তিনি এর আগে গাজিয়াবাদের অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরোতেও ভাল কাজ করেছেন। ২০১৪ সালের ১৫ অগস্ট পুলিশ মেডেলও পান সীমা। সিবিআই অফিসার হওয়ার পরে হাথরস ছাড়াও আরও বেশ কিছু তদন্তে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন তিনি। সাহসী এবং নির্ভীক অফিসার হিসেবেই সীমাকে চেনেন সকলে।
এবার সেই সীমাই যোগ দিলেন আরজি কর তদন্তে।
অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্টের জন্য সিবিআই-কে অনুমতি দিয়েছে আদালত। এই টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যায়, যে কেউ মিথ্যা বলছে কিনা। সঞ্জয় রায়ের এই টেস্ট করলে জানা যেতে পারে, ওই দিন ঘটনার সময়ে সে ঠিক কী কী করেছিল, তার সঙ্গে আর কেউ ছিল কিনা এবং আরও নানা তথ্য।
প্রসঙ্গত, আজ, সোমবারই সামনে এসেছে নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট। বিস্তারিত রিপোর্টের উপসংহারে পরিষ্কার বলা হয়েছে, শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে চিকিৎসককে। তা ছাড়া জোর করে তাঁর যৌনাঙ্গে কিছু ঢোকানো হয়েছিল, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল। বিস্তারিত পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, চিকিৎসকের এন্ডোসার্ভাইকাল ক্যানেলে গাঢ় সাদা তরল পাওয়া গিয়েছে, চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলা যেতে পারে, হোয়াইট থিক ভিসিড লিক্যুইড। যার ওজন হতে পারে ১৫১ গ্রাম।
রিপোর্ট দেখে সব মিলিয়ে অনেকেরই অনুমান, যে অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে এবং যেভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, তাতে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারার সন্দেহই বাড়ছে। এই অভিযোগ অবশ্য প্রথম থেকেই করে এসেছেন নির্যাতিতাক বাবা-মা। তাঁরা দাবি করেছেন, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত। কলকাতা পুলিশও প্রথম থেকেই সে কথা মাথায় রেখেছে। সিবিআই সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হলে সত্যিটা সামনে এলেও আসতে পারে।
এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সীমা পাহুজাকে দলে পেলেন তদন্তকারী অফিসাররা। আশা করা যাচ্ছে, এবার এই নৃশংস খুনের তদন্তে সঠিক দিশা মিলবে।