
শেষ আপডেট: 9 October 2023 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কামদুনি গণধর্ষণ মামলায় যে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নয়, সেকথা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য। সুপ্রিম করতে যাওয়ার কথাও বলেছিল। এবার সত্যিই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার।
২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ মামলায় গত শুক্রবার রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, নিম্ন আদালতে যাদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা রদ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যেসব অভিযুক্তদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল নগর দায়রা আদালত, তাদের বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণের অভাবেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের রায় সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় বিভিন্ন মহলে। আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কামদুনি আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা মৌসুমী কয়াল, টুম্পা কয়ালরা। অসুস্থ হয়ে পড়েন মৃতার ভাই। রাজ্যের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। সেইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলেও জানান টুম্পারা। আদালতের সামনেই জ্ঞান হারান মৌসুমী।
তবে মৃতা ছাত্রীর পরিবার স্পষ্টভাবেই এই রায়ের দায় রাজ্য সরকারের ঘাড়ে চাপালেও রাজ্য নিজে জানায় তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নয়। তখনই জানানো হয়, কামদুনি রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে তারাও। ডিআইজি-সিআইডির নেতৃত্বে একটি টিম তৈরি করা হয় এই ব্যাপারে। সেই টিম পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখে শীর্ষ আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুক্রবার রায় শোনার পরেই শীর্ষ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন টুম্পা-মৌসুমীরা। নির্যাতিতার ভাই জানিয়েছিলেন, কোর্টের রায়ে তাঁরা একেবারেই সন্তুষ্ট নন। সেই সঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন তিনি। জানান, এই কয়েক বছরে ১২ জন পিপি অর্থাৎ পাবলিক প্রসিকিউটার এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হত বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধেই আঙুল তুলেছিল মৃতার পরিবার। তবে রাজ্যের বিরুদ্ধে এমন বিস্ফোরক অভিযোগের পরেও তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের দায়ের করা মামলাতেই পার্টি হতে চাইবেন, নাকি পৃথকভাবে মামলা দায়ের করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ জুন পরীক্ষা দিয়ে কামদুনির বাড়িতে ফিরছিলেন রাজারহাট ডিরোজিও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীটি। অভিযোগ, বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে রাস্তা থেকে জোর করে পাঁচিল ঘেরা একটি ঘরে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। সেখানেই দফায় দফায় চলে গণধর্ষণ। এই ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে পায় সিআইডি।
তদন্তে নেমে সিআইডি আটজনকে গ্রেফতার করে। ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত তাদের মধ্যে ছ'জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনায়। তিনজনকে ফাঁসি ও তিনজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক।
নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করে অভিযুক্তরা। সাজা মুকুবের আবেদন জানায় তারা। গত পাঁচ ধরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে। ২৪ জুলাই ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি শেষ হয়। শুক্রবার সেই মামলার রায় দেয় হাইকোর্ট।