
শেষ আপডেট: 14 December 2023 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরতে পরতে দুর্নীতির অভিযোগ। ভুয়ো সংস্থার নামে বেআইনি লেনদেন, সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তা শোধ না-করা, কয়েক মাসের মধ্যে কোটি টাকা ব্যাঙ্কে জমা করা, এই রকম অজস্র অভিযোগকে সামনে রেখে রাজ্যের বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে রেশন বণ্টন দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্ত্রী ও মেয়েকে সামনে রেখেই কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। ইডির পেশ করা ১৬২ পাতার চার্জশিটের সবটাতেই শুধু দুর্নীতির কথাই লেখা আছে বলে সূত্রের খবর। সেই সঙ্গেও এও জানা গেছে, স্ত্রী মণিদীপা ও মেয়ের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি রাখা আছে।
ইডির পেশ করা চার্জশিট থেকে জানা যাচ্ছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্ত্রী ও মেয়ের নামে ৫৮টা টার্ম ডিপোজিট ছিল ব্যাঙ্কে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ১ হাজার ৪৭৮ টাকা জমা ছিল। সব টাকাই বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
ইডির অভিযোগ, ২০১৬ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়মমাফিক যে হলফনামা জমা দিতে হয়েছিল মন্ত্রী তথা নির্বাচনে প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয়কে, সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা রয়েছে। ইডির দাবি, তার এক বছরের মধ্যে মন্ত্রীর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ছ’কোটি টাকা জমা পড়ে। এত কম সময়ের মধ্যে কী করে এত টাকা এল তার উত্তর পাওয়া যায়নি।
২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে ২০২১ সালে তাঁকে বনমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও খাদ্য দফতরের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁকে রেখে দেওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে প্রচুর টাকার লেনদেন হত। সেখান থেকেই দুর্নীতির সূত্রপাত বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
ধান কেনার ক্ষেত্রে সরকারের ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরে ধরপাকড় শুরু করতেই গত ১৪ অক্টোবর ওই দুর্নীতিতে জড়িত অভিযোগে ব্যবসায়ী বাকিবুরকে গ্রেফতার করা হয়। এই বাকিবুরকে জেরা করেই জ্যোতিপ্রিয়র নাম সামনে আসে। ইডির দাবি, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত, মাত্র পাঁচ মাসে বালুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে মন্ত্রীর মেয়ে প্রিয়দর্শিনীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল ৩ কোটি টাকার বেশি। ইডি দাবি করে, মন্ত্রীর স্ত্রী মণিদীপা মল্লিক ও মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নামে শ্রী হনুমান রিয়েলকন প্রাইভেট লিমিটেড, গ্রেসিয়াস ইনোভেটিভ প্রাইভেট লিমিটেড এবং গ্রেসিয়াস ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড নামে যে তিনটি সংস্থা রয়েছে যেখানে একাধিক ভুয়ো সংস্থা মারফত ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগও হয়েছে। ভুয়ো সংস্থার নামে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হত। বাকিবুর জেরায় ইডিকে জানিয়েছিল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর থেকেও প্রায় ৯ কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঋণ এখনও শোধ হয়নি।