দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিল দু’টি জোট। একটি জোটের সমর্থক বিজেপি। অন্যদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির পি ডি পি-র সঙ্গে জোট বেঁধেছিল কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্স। রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক কোনও জোটকেই শক্তিপরীক্ষা দিতে ডাকেননি। তার বদলে ভেঙে দিয়েছেন বিধানসভা। রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠেছে প্রশ্ন।
বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পরে রাজ্যে ভোট হবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে দেশে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা ভোট হতে পারে।
ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেস একসঙ্গে অভিযোগ তুলেছে, রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে এই কাজ করেছেন। সাংবাদিকরা রাজ্যপালকে প্রশ্ন করেন, মেহবুবা মুফতি তো ইস্তফা দিয়েছেন গত জুন মাসে। এতদিন বিধানসভা ভাঙেন নি, এখনই বা ভেঙে দিলেন কেন? তিনি বলেন, এতদিন তো কেউ সরকার গড়ার ‘ভয়ংকর’ পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়নি।
চলতি সপ্তাহের গোড়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন রাজ্যপাল। তিনি বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, রাজ্যে এখন স্থিতিশীল সরকার গড়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এমন সব দল পরস্পরের সঙ্গে জোট বাঁধছে, যাদের আদর্শ সম্পূর্ণ বিপরীত। শোনা যাচ্ছে, বিধায়ক কেনাবেচা শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে। টাকার খেলা শুরু হয়েছে।
মেহবুবা মুফতি টুইট করে জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষে ৫৬ জন বিধায়ক আছেন। তার মধ্যে কংগ্রেসের ১২ জন, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ১৫ জন। ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট বিধানসভায় ৪৪ টি আসন থাকলেই সরকার গঠন করা যায়।
https://twitter.com/MehboobaMufti/status/1065255025297911808
মেহবুবার দাবি, তিনি রাজ্যপালকে ফোন করেছিলেন। তিনি ফোন ধরেননি। চিঠি ফ্যাক্স করার চেষ্টা করেছিলেন। তাও পারেননি। তাঁকে বলা হয়েছিল, রাজভবনের ফ্যাক্স মেশিন খারাপ আছে।
বিজেপি সমর্থিত যে জোট সরকার গড়ার দাবি জানিয়েছিল, তার নেতা সাজ্জাদ লোন। তিনি হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, তাঁর পক্ষে আছেন বিজেপির ২৫ জন বিধায়ক। তাছাড়া ‘অন্যান্য দলের’ আরও ১৮ বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করবেন বলে কথা দিয়েছেন।
সাজ্জাদ লোন সরকার গঠনের দাবি জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে রাজ্যপাল এক ফ্যাক্সবার্তায় জানিয়ে দেন, তিনি বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে মেহবুবা মুফতি প্রশ্ন তোলেন, আমাকে একটু আগেই বলা হয়েছিল, রাজভবনের ফ্যাক্স মেশিন খারাপ। তাই আমার চিঠি ফ্যাক্স করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ফ্যাক্স মেশিন ঠিক হয়ে গেল কী করে?
ওমর আবদুল্লা টুইট করে বলেন, ন্যাশনাল কনফারেন্স গত পাঁচ মাস ধরে দাবি জানাচ্ছে, বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হোক। কিন্তু রাজ্যপাল কান দেননি। বুধবার যেই মেহবুবা মুফতি সরকার গড়ার দাবি জানালেন সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন বিধানসভা। এটা আপতিক হতে পারে না।
https://twitter.com/OmarAbdullah/status/1065268875514789895
জুন মাসে মেহবুবা মুফতি ইস্তফা দেওয়ার পরে জম্মু-কাশ্মীরে রাজ্যপালের শাসন জারি আছে। রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে না দিলেও তার অধিবেশন বন্ধ রেখেছিলেন। রাজ্যপালের যুক্তি ছিল, বিধানসভা ভেঙে দিলে বিধায়করা নিজেদের নির্বাচনী কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য আর অনুদান পাবেন না। রাজ্যের উন্নয়নে সমস্যা হবে। তাই তিনি বিধানসভা ‘সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন’ অবস্থায় রেখেছেন।