দ্য ওয়াল ব্যুরো : দলিত তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে রিপোর্টিং করার জন্য হাথরাসে যাচ্ছিলেন কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান। পথে তাঁকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এর মধ্যে শোনা যায়, সাংবাদিকের ৯০ উত্তীর্ণা মা গুরুতর অসুস্থ। তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য সোমবার সিদ্দিক কাপ্পানকে শর্তাধীনে পাঁচ দিনের জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতিরা নির্দেশ দিয়েছেন, কেরলে যাওয়ার পথে কাপ্পান মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। আত্মীয়-স্বজন, চিকিৎসক এবং তাঁর মায়ের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত লোকজন ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে পাহারা দিয়ে কেরলে নিয়ে যাবে। তিনি যাতে নিরাপদে মায়ের সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসতে পারেন, তা পুলিশ নিশ্চিত করবে।
কাপ্পানের বাড়ি কেরলের মালাপ্পুরমে। গত মাসে আদালত তাঁকে ভিডিও কলের মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়। কিন্তু তাঁর মা অচেতন অবস্থায় আছেন। তাই কাপ্পান কথা বলতে পারেননি।
সাংবাদিকের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি শীর্ষ আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন, সিদ্দিক কাপ্পানের মা মারা যাওয়ার আগে একবার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান। তখন সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ভিডিও কলের অনুমতি দেয়।
হাথরাসে যাওয়ার পথে আরও তিনজনের সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছিলেন কাপ্পান। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানায়, তাদের কাছে খবর ছিল, কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাথরাসে যেতে চেষ্টা করছে। ওই 'সন্দেহভাজন' ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, কাপ্পান সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য টাকা তুলছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কাপ্পান মথুরা জেলে রয়েছেন। কেরল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস থেকে কাপ্পানের গ্রেফতারির বিরোধিতা করা হয়। তাদের দাবি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ওঠা দেশদ্রোহের অভিযোগ মিথ্যা। জেলে তাঁর ওপরে অত্যাচার করা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকার সাংবাদিকের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে বলে, সাংবাদিকের ছদ্মবেশে কাপ্পান অশান্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তিনি যে সংবাদপত্রের সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন, তা অনেকদিন আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, তদন্ত করে কাপ্পান সম্পর্কে যা জানা গিয়েছে, তা রীতিমতো চমকে ওঠার মতো।
কাপ্পানকে গ্রেফতার করার পরেই কেরল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট তাঁর মুক্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। তাদের বক্তব্য, বেআইনিভাবে কাপ্পানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার তাঁকে অবিলম্বে আদালতে পেশ করুক।