
শেষ আপডেট: 3 May 2023 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে ইদানী একটি কথা চালু হয়েছে, শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) মন বোঝা মিলি মিটারের হিসাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আগাম বলে দেওয়ার সমান। অর্থাৎ দুটিই অসম্ভব। পাওয়ারের এনসিপি-র শীর্ষ পদ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে আত্মজীবনী প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি আচমকাই ঘোষণা করেন দলের শীর্ষ পদ থেকে সরে যাবেন। তবে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন। অন্তত রাজ্যসভার সদস্যপদ যতদিন আছে। পদ ছাড়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন সভাপতি বেছে নিতে কমিটিও গড়ে দেন (Is Sharad Pawar on the way of patrimony)।
আবার সন্ধ্যায় দলীয় নেতাদের কথা দেন, পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন। দু-তিন দিন সময় চান। বুধবার সকালে আবার দেখা যায় পাওয়ার আবার আগের মতোই কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মুম্বইয়ের বাড়িতে দেখা করা শুরু করেছেন। কিন্তু বিকালেই তাঁর গড়ে দেওয়া কমিটিকে বৈঠকে বসতে হয়েছে উত্তরসূরি বেছে নিতে। ভাইপো অজিত পাওয়ারের দাবি, ‘কাকা মত বদলাতে রাজি নন। তাই কমিটির বৈঠক ডাকতে হয়েছে।’
তবে এরপরও অনেকেই নিশ্চিত নন যে পাওয়ার ভিন্ন কথা বলবেন না (speculation)। তাহলে কি মারাঠি নেতা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত? তিনি কি কখন কী বলছেন মনে রাখতে পারছেন না?
পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ মহল এবং এনসিপি নেতারা কিন্তু তা মনে করছেন না। তাঁদের কথায়, এনসিপি সুপ্রিমো খুব ভাবনাচিন্তা করেই এগোচ্ছেন নিজের পরিকল্পনাকে দলের সিদ্ধান্তে রূপ দিতে। এনসিপির চাবিকাঠি নিজের তো বটেই, পরিবারের হাতে রাখতে চান প্রতিষ্ঠাতা নেতা। পাওয়ারের ফরমুলা হল, সাংসদ মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে হবেন জতীয় সভাপতি। আর ভাইপো অজিত হবেন মহারাষ্ট্র এনসিপি-র শেষ কথা।
অজিতের দীর্ঘদিনের বাসনা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। সেই বাসনা পূরণে কাকা হিসাবে পাওয়ার যে তাঁর পাশেই আছেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সুপ্রিয়াকে জাতীয় রাজনীতিতে ঠেলে দেওয়া। মেয়ে ও মেয়ের জামাই এখন পাওয়ারের ছায়াসঙ্গী বলা যায়। সুপ্রিয়ার স্বামী সদানন্দ বালচাঁদ সুলে প্রধান কাজ শ্বশুরের ভাষণ লিখে দেওয়া। মঙ্গলবার পাওয়ার দলীয় সভাপতির পদ ছাড়ার যে ঘোষণা করেন তাও লিখিত ভাষণে উল্লেখ ছিল।
পাওয়ার এখন চাইছেন, দলের মধ্য থেকেই তাঁর মেয়ে এবং ভাইপোকে দলীয় পদে বসানোর প্রস্তাব আসুক। যেভাবে মুলায়ম সিং যাদব অখিলেশ যাদবকে এবং বালা সাহেব ঠাকরে উদ্ধবকে উত্তরসূরি বেছে নিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রে তাই চর্চা শুরু হয়েছে এনসিপিতে রাজ ঠাকরে এবং শিবপাল যাদব কে হতে পারেন।
উদ্ধবকে উত্তরসূরি বাছতেই শিবসেনা ছেড়েছিলেন বালাসাহেবের ভাইপো রাজ। গড়েন নিজের দল। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে দল গড়েন মুলায়মের ভাই শিবপালও। যদিও এখন অখিলেশের সঙ্গে কাকা শিবপালের মিটমাট হয়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, এনসিপির বৈঠকে ইতিমধ্যেই প্রবীণ নেতা ছগন ভুজবল, যাঁর নাম পাওয়ারের উত্তরসূরি হিসাবে বিবেচনায় ছিল, তিনি সুপ্রিয়াকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিয়েছেন কমিটির বৈঠকে। তবে কমিটির বাকিদের মত এখনও জানা যায়নি।
২৬টি চাকরির দাম ১ কোটি ৪০ লক্ষ! শান্তনুর বিরুদ্ধে কোর্টে বলল ইডি