দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিমহামারী থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি? বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দু’কোটি ছাড়িয়েছে। সংক্রমণে মৃত্যু আট লাখের কাছাকাছি। ইতিমধ্যেই সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা দেখা গেছে চিনে। ইউরোপ, আমেরিকায় শীতের সময় ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই সবকিছুর মধ্যেই আশার কথা শুনিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।
হু কর্তা টেড্রস আধানম ঘেব্রেইসাস আজ একটি ভিডিও কনফারেন্সে বলেছেন, করোনার সংক্রমণ আর দু’বছর স্থায়ী হতে পারে। এর পরেই ধীরে ধীরে মহামারী প্রকোপ কমতে শুরু করবে। বিশ্বের একটা অংশের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে। ভাইরাসও দুর্বল হয়ে পড়বে।
টেড্রসের কথায়, ১৯১৮ সালে ভয়ানক স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটিয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু। সেই মহামারীতে বিশ্বজুড়েই কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে স্প্যানিশ ফ্লু-এর প্রভাবও বছর দুয়েকের পর থেকে কমতে শুরু করেছিল। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে।
কোভিড মহামারী নিয়ে এই প্রথম আশার কথা শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে হু কর্তা বলেছিলেন, অতিমহামারী থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। বরং বিশ্ব এক নতুন ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। সংক্রামিতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি সংক্রমণের সন্দেহে থাকা মানুষের সংখ্যাও অনেক। এই ভাইরাস আরও অনেক দূর যেতে পারে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
হু কর্তার বক্তব্য, ভাইরাসের সংক্রমণ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে ‘ওল্ড নর্মাল’-এ ফিরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। আগামী দিনে সংক্রমণ ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ না করলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বিশ্বের কয়েকটি দেশকে। তাঁর বক্তব্য, অতিমহামারী ঠেকাতে যে প্রাথমিক বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত তা করছে না অনেক দেশই। কিছু দেশ ভুল পথে হাঁটছে। যে কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। এই দুই দেশের সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে হু প্রধান বলেন, আমেরিকায় সংক্রামিত ৫৭ লাখ ছাড়িয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্ত ৩৫ লাখের বেশি। আক্রান্ত হয়েছেন যার অধিকাংশই এই দুই দেশে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা যে ভুল পথে হাঁটছে এমন মন্তব্য করেছিলেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের প্রধান ও হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফৌজিও। তাঁর বক্তব্য ছিল, করোনা মোকাবিলায় সঠিক পদক্ষেপ করছে না মার্কিন প্রশাসন। ফ্লোরিডা, অ্যারিজ়োনা, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসের অবস্থা ভয়াবহ। এর পরেও লকডাউন শিথিল করা হয়েছে বেশ কিছু রাজ্যে। খুলেছে স্কুল-কলেজ। যে কারণে সংক্রমণের কার্ভও বেড়ে চলেছে।
হু কর্তার বক্তব্য, ভাইরাসের সংক্রমণ তখনই কমবে যখন মানুষের শরীরে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd Immunity) তৈরি হবে। অর্থাৎ শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, সমাজের এক অংশের মধ্যে যদি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়, তাহলেই ভাইরাল স্ট্রেন ব্যাপক হারে সংক্রমিত হতে পারবে না। একটা পর্যায়ের পরে স্ট্রেন দুর্বল হতে শুরু করবে। সেই পর্যায় থেকেই সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু কমবে। তবে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতে এখনও অনেক দেরি রয়েছে বলেই জাবি করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাইরোলজিস্টরা।
লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষক রবিন শ্যাটক বলেছিলেন, প্রথম ভ্যাকসিন এলেও নির্মূল হবে না ভাইরাস। কারণ মানুষের শরীরে ভাইরাসকে কাবু করার মতো পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগবে। কাজেই হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হতেও সময় সাগবে। গবেষকের দাবি ছিল, ভাইরাসকে এখনই নির্মূল করা হয়ত যাবে না, তবে কোভিড ভ্যাকসিন চলে এলে সংক্রমণের কারণে জটিল রোগের হাত থেকে রেহাই মিলবে। প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকি কমবে।