
শেষ আপডেট: 12 August 2020 18:30
কাঞ্চনাবুড়ি প্রদেশের সাই ইয়ক ন্যাশনাল পার্কের পাহাড়ি গুহাগুলি থেকে ২০০টি বাদুড় ও তাদের মল, মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করেছেন থাই রেড ক্রস ইমার্জিং ইনফেকসিয়াস ডিজিজ সেন্টারের গবেষকরা। হর্সশু (horseshoe) বাদুড়ের ১৯টি প্রজাতির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকরা বলেছেন, শুধু হর্সশু নয়, আরও কয়েকটি প্রজাতির বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাদুড়ের শরীরে নানারকম ভাইরাস বাসা বাঁধে। সার্স-কভ-২ যে বিটা-করোনাভাইরাসের পরিবার থেকে এসেছে ওই পরিবারেরই আরও কয়েকরকম ভাইরাসের বাহক বাদুড়। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, কয়েক দশক আগেই নভেল করোনার মতো ভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল বাদুড়ের শরীরে। গত ৪০-৭০ বছরে সেই ভাইরাসেরই বিবর্তন হয়েছে। হতেই পারে সার্স-কভ-২ ভাইরাস সেই বিবর্তনেরই ফল।
থাই রেড ক্রস ইমার্জিং সেন্টারের ডেপুটি চিফ বলেছেন, প্রায় ২০০ রকম বাদুড়ের নমুনা পরীক্ষা করে কয়েকটি আলাদা করা হয়েছে। এই বাদুড়দের থুতু, রক্ত, মল-মূত্রের নমুনায় এমন কিচু ভাইরাসের জিন মিলেছে যার সঙ্গে নভেল করোনার কিছুটা হলেও মিল আছে। তবে এখনও এই বিষয়টা নিশ্চিত নয়। হতেই পারে বাদুড়ের শরীরে পাওয়া ভাইরাস সংক্রামক নয়, মানুষের শরীরে ঢোকার আগেই তাদের জিনগত বদল হয়ে আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠেছে। বিস্তারিত গবেষণার পরেই সেটা জানা যাবে বলে দাবি করেছেন থাই গবেষকরা।
‘নেচার মাইক্রোবায়োলজি’ সায়েন্স জার্নালে কিছুদিন আগেই একটি গবেষণার রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। সেখানে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন, বাদুড়ের ভাইরাস RaTG13 এর সঙ্গে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিনের মিল বেশি। কাজেই মানুষের সমাজে অতিমহামারীর জন্য দায়ী যে সার্স-কভ-২ তার উৎস ব্যাট ভাইরাস হতে পারে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে। সার্স-কভ-২ ও বাদুড়ের ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দাবি করেন, এই দুই ভাইরাসের উৎস একই। RaTG13 এবং সার্স-কভ-২ একই পরিবারের সদস্য। ১৯৪৮, ১৯৬৯ ও ১৯৮২ সালে যে ব্যাট ভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল তার সঙ্গেও নভেল করোনার মিল রয়েছে।
ভাইরাস সামান্য হোক বা প্রাণঘাতী, তার বিস্তারের জন্য বাহকের দরকার হয় যাকে বলে Reservoir। ভাইরাস কিন্তু এই বাহকের ক্ষতি করে না। বরং তার শরীরকে আশ্রয় করেই বাড়তে থাকে। বাদুড় হল এমনই এক বাহক। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাড়ুডের প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনই যে, সংক্রামিত না হয়েও নিজের শরীরে ভাইরাসদের বহন করতে পারে। লক্ষণহীন সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন ভাইরাসও নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠে বাদুড়ের শরীরে।
এনসিবিআই-পাবমেডের জার্নালে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই বাদুড়রা মানুষের সংস্পর্শ সাধারণত এড়িয়েই চলে। তবে যেভাবে জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে তাতে তাদের খাদ্যশৃঙ্খলে বড় বাধা পড়ছে। গাছ কাটার ফলে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলছে না। তাছাড়াও মানুষের শিকার, বাদুড় খাওয়ার প্রবৃত্তি নানা কারণে এরা ক্রমশই মানুষের সমাজের কাছাকাছি চলে আসছে। এদের শরীরে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসও স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের শরীরের মতো বড় আধার খুঁজে নিচ্ছে। তারপর ইচ্ছামতো জিনের বদল ঘটিয়ে আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। সার্স-কভ-২ ভাইরাসও ঠিক এইভাবেই ছড়িয়েছে কিনা সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।