
শেষ আপডেট: 27 February 2023 06:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নীতি পুলিশের হাতে হিজাব না পরার জন্য ২২ বছর বয়সি মাহশা আমিনির (Mahsa Amini) মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ইরান। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল অজস্র প্রতিবাদীকে। সরকারবিরোধী প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীরাও। সেই ঘটনার পর থেকেই আচমকা অদ্ভুতভাবে দেশের বিভিন্ন শহরে স্কুলগুলিতে শ্বাসযন্ত্রে বিষক্রিয়ার কারণে ছাত্রীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা নজরে আসছিল। এই ঘটনার পিছনে স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য, বিশেষত মেয়েরা যাতে স্কুলে না যায় তার জন্য ছাত্রীদের শরীরে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষক্রিয়া ঘটানোর অভিযোগ উঠেছিল (Girls Poisoned In Iran)। রবিবার কার্যত সে কথা স্বীকার করে নিলেন ইরানের ডেপুটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনেস পানাহি।
রবিবার একটি বিবৃতিতে এই ঘটনাকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' আখ্যা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, 'কায়ুম শহরের একাধিক স্কুলে ছাত্রীদের শরীরে বিষক্রিয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। তারপর তদন্তে দেখা গেছে, কিছু লোকজন চাইছিল স্কুল বন্ধ করে দিতে, বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলগুলি।'
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই বিষক্রিয়া ঘটানোর জন্য যে ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলি যুদ্ধে ব্যবহৃত রাসায়নিক নয়। এবং সেই বিষ নিষ্কাশনের জন্য জটিল কোনও চিকিৎসারও প্রয়োজন নেই। ব্যবহৃত রাসায়নিকের বেশিরভাগেরই চিকিৎসা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই কায়ুম সহ ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক ছাত্রীর শ্বাসযন্ত্রে বিষক্রিয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল (poisoning girl students)। অনেকেরই শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়েছিল তাদের। শ'য়ে-শ'য়ে ছাত্রীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা যে কোনওভাবেই কাকতালীয় নয়, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। সেই ঘটনার পিছনে ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেছিল বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, কায়ুমের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রীদের বাবা মায়েরা শহরের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান তাঁরা। এর পরের দিনেই সরকারি মুখপাত্র আলি বাহাদোরি জাহরোমি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং ইন্টেলিজেন্স বিভাগের তরফে বিষক্রিয়ার ঘটনার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রসিকিউটার জেনারেল মহম্মদ জাফর মোন্তাজেরি এই ঘটনায় একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই তদন্তে উঠে আসে, ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছাত্রীদের শরীরে তাদের অলক্ষ্যে বিষ প্রবেশ করানো হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই কাজ করছে সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। ডেপুটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃত বিষক্রিয়ার ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও তার চেয়ে বেশি কিছু বলেননি।
ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
বরফের চাদরে ঢাকল সান্দাকফু! দার্জিলিং-সিকিমে তুষারপাত, উল্লাস পর্যটকদের, দেখুন ভিডিও