
শেষ আপডেট: 9 November 2023 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগ থেকে দেহ পাচারের অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত ৫ জনের মধ্যে তিনজন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেরই কর্মী। ধৃত অবিনাশ মল্লিকের বাড়ি দার্জিলিং জেলার মাটিগড়া থানার কালামজোটে। বর্ধমানের সাধনপুরে বাসিন্দা নন্দলাল ডোম। দু'জনেই অ্যানাটমি বিভাগের কর্মী। ধৃত গৌতম ডোম হাসপাতালের ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির কর্মী। তার বাড়ি বর্ধমানের ষাড়খানাগলিতে। অ্যাম্বুল্যান্স চালক শম্ভু মিত্র ও তার ছেলে শববাহী গাড়ির চালক সুমন মিত্রকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বাড়ি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ এলাকায়।
বুধবার সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরে পড়ে শববাহী গাড়ির চালক সহ বেশকয়েক জন। বর্ধমান থানার পুলিশ বুধবার সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, “ঘটনার মূল চক্রী পলাতক। ওই ব্যক্তিকে ধরতে পারলে দেহ পাচারের গোটা রহস্যের কিনারা হবে। পলাতক ব্যক্তি একসময়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের কর্মী ছিলেন।” তবে তার নাম বা পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন জেলা পুলিশ সুপার।
অভিযোগ, বুধবার সকালে মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের মৃতদেহ রাখার ঘর থেকে তিনটি দেহ লোপাট করা হচ্ছিল শববাহী গাড়িতে। কিন্তু পাচারের আগেই নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতায় তিনটি মৃতদেহ-সহ গাড়িটিকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ মেডিক্যাল কলেজে যায়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মেডিকেল কলেজের চার কর্মী-সহ মোট ৭ জনকে আটক করা হয়। বুধবার সকালে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় মেডিকেল কলেজ চত্বরে। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহ পাচার করা হচ্ছে এমন খবর জানতে পেরে তৎপর হন কর্মীরা।
দেহ পাচার চক্রে জড়িত সন্দেহে ধৃতরা আন্তঃরাজ্য পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পুলিশের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে দেহগুলি ভিন রাজ্যে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। সম্ভবত উত্তরাখণ্ডে দেহগুলি পাচার করার উদ্দেশ্য ছিল পাচারকারীদের। তবে এত বড় ঘটনার পরেও জেলা প্রশাসন ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কৌস্তভ নায়েক এই বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। কেন মানবদেহ পাচারের বিষয়টিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এত লঘু করে দেখানো হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।