দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালোবাসার দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত হয়েছিল উপত্যকা। পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ফিদায়েঁ জইশ হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৪৯ জন জওয়ান। এর পরে হামলা-পাল্টা হামলা, বালাকোটে ভারতের প্রত্যাঘাত ঘিরে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। গোটা দেশ জুড়ে জঙ্গি-দমন অভিযান শুরু হলেও শান্ত হয়নি উপত্যকা। সোপোর, ত্রাল, পুঞ্চ থেকে জম্মু-কাশ্মীরের নানা জায়গায় পালা করে হামলা চালাচ্ছে জইশ, হিজবুল মুজাহিদিন-সহ পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের সংগঠন। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে খবর, জইশের পরে পুলওয়ামা ধাঁচেই সিআরপিএফ কনভয়ে ফের বড়সড় আত্মঘাতী হামলা চালাতে পারে উপত্যকার হিজবুল গোষ্ঠী।
১৪ ফেব্রুয়ারির পর ৩০ মার্চ জম্মু-কাশ্মীরের বানিহালে সেনা কনভয়ে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টা করেছিল হিজবুল জঙ্গিরা। তবে আগে থেকেই গোয়েন্দা মারফৎ খবর পেয়ে সতর্ক ছিল সেনা-পুলিশ। সেই হামলা রুখে দেওয়া গিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা দফতরের দুই আধিকারিকের কথায়, ফের নতুন করে হামলার ছক কষছে হিজবুল মুজাহিদিন। পুলওয়ামার থেকেও বড় নাশকতা তৈরির চেষ্টা রয়েছে তারা।
পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার পরে উপত্যকায় চিরুণি তল্লাশি চালিয়ে একাধিক হিজবুল কম্যান্ডারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছে, হিলাল আহমেদ মান্টো। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-এ-ইসলামির স্টুডেট উইং-এর মাথা সে। পঞ্জাবের বাটিন্ডার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে তাকে পাকড়াও করেছিল এনআইএ। হিলালকে জেরা করেই হিজবুলের নতুন ছকের কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
বানিহালের সেই গাড়িবোমা বিস্ফোরণে পিছনে ছিল জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল-উল-মুজাহিদিনের হাত। পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা মুন্না বিহারির সঙ্গে হামলার ছক কষেছিল উপত্যকার হিজবুল নেতা রিয়াজ নাইকু ও শইফুল্লা। অপারেশনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ছ’জন কলেজ পড়ুয়াকে। তাদের নাম উমর সফি, ওয়াসিম, শোপিয়ানের বাসিন্দা আকিব শাহ, শাহিদ ওয়ানি, ওয়াইস আমিন এবং হিলাল আহমেদ মান্টো। বাকি পাঁচজনকে চালনা করত হিলাল। এই ছ’জনকেই নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাদের জেরা করছে গোয়েন্দারা।
এনআইএ সূত্রে খবর, দক্ষিণ কাশ্মীরের হিজবুল কম্যান্ডার ডঃ সইফুল্লার খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল হিলাল। গত সপ্তাহেই হিজবুলের একাধিক সক্রিয় সদস্যের সঙ্গে গোপন আস্তানায় দীর্ঘক্ষণ শা-পরামর্শ করে সইফুল্লা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সেখানে হাজির ছিল মুস্তাক আহমেদ মালিক, জাকির হুসেন মীর, রফিক আহমেদ মাগরে এবং আলম ভাট। সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালানোর জন্য হিজবুলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে এই কম্যান্ডারদের ইতিমধ্যেই অস্ত্র ও আর্থিক সাহায্য পাঠানো হচ্ছে। এনআইএ জানিয়েছে, গোপন ডেরায় এরা সিলিন্ডার, জিলেটিন স্টিক, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিস্ফোরক জমা করছে। এই পুরো ব্যাপারে উপত্যকার হিজবুলদের সাহায্য করছে পাকিস্তানের হিজবুল মাথা সায়েদ সালাউদ্দিন।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-national-mumbai-police-booked-two-individuals-in-vasai-who-were-dressed-as-terrorists/