দ্য ওয়াল ব্যুরো: "ও কেন এমন করল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।"-- বারবার এই কথাই বলে চলেছেন হর্ষ ছেত্রী। সম্প্রতি আইরিস হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এক শিশুকন্যার দাবি নিয়ে আসা তিন বাবার মধ্যে এক জন। তাঁর দাবি, তিনিই ওই শিশুর বাবা। শিশুটির মায়ের বিবাহিত স্বামী। এমনকী সদ্যপ্রসূতি মা-ও সে কথাই জানিয়েছিলেন পুলিশকে। হর্ষ নিজেও বিয়ের নথিপত্র জমা দিয়েছেন পুলিশের কাছে। সেই অনুযায়ী হর্ষের নামেব নথিও তৈরি করেছে হাসপাতাল। কিন্তু তার পরেও বেঁকে বসেছেন তরুণী। ফিরতে চাননি হর্ষের সঙ্গে। এই ধাঁধা কেটে বেরোতে পারছেন না হর্ষ নিজেই।
বৃহস্পতিবার 'দ্য ওয়াল' হর্ষ ছেত্রী জানান, উত্তরপাড়ার ওই তরুণীকে অনেক দিন ধরেই চেনেন হর্ষ। আলাপ হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরে একসঙ্গে বহু জায়গায় গেছেন তাঁরা। সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। গত বছরের শেষ দিকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তরুণী। হর্ষের দাবি, তখনও সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানত না কেউ। তিনি কোনও স্থায়ী চাকরিও করতেন না। কিন্তু তরুণী জবরদস্তি করেন বিয়ের জন্য।
হর্ষ বলেন, "বাড়িতে সবাইকে মানিয়ে, চাকরি জোগাড় করে মার্চ মাসে বিয়ে করে নিই ওকে। ১৫ মার্চ বিয়ে হয় আমাদের। তার পরে সব ঠিক ছিল। হঠাৎ আমায় দীপঙ্কর পাল বলে এক জনের সঙ্গে পরিচয় করালো ও। শুনলাম, ওর বন্ধু হয়। স্বপ্নেও ভাবিনি, ওর জন্যই ছারখার হয়ে যাবে সব কিছু।"
শনিবার বিকেলে হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ২১ বছরের তরুণীকে নিয়ে গাঙ্গুলি বাগানের আইরিস হাসপাতালে আসেন দীপঙ্কর পাল। নিজেকে তাঁর স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে তরুণীকে সেখানে ভর্তি করেন তিনি। হাসপাতালের বিলেও স্বামী হিসেবে লেখা হয় দীপঙ্করের নাম। স্থানীয় রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দা এই দীপঙ্কর। রবিবার অস্ত্রোপচার করে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তরুণী।
আর গোল বাধে তার পরেই। রবিবার সকালে হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন নিউ টাউনের ভিস্তা গার্ডেনের বাসিন্দা হর্ষ ছেত্রী। তিনি এসে বলেন, তিনিই তরুণীর স্বামী, তিনিই ওই সন্তানের বাবা। এ কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও।
এখানেই শেষ নয়। সোমবার সন্ধেবেলা ফের প্রদীপ রায় বলে এক ব্যক্তি এসে দাবি করেন, তিনিই নাকি ওই সন্তানের বাবা। মঙ্গলবার তিনিও ‘লোক নিয়ে আসবেন’ বলে বেরিয়ে যান। ইতিমধ্যেই নেতাজি নগর থানায় গিয়ে প্রদীপ ও দীপঙ্করের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন হর্ষ ছেত্রী। পুলিশের তরফে ফোন করা হয় হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পুলিশ যা বলবে তাই করা হবে। এই ব্যাপারে তাঁরা কিছু বলতে পারবেন না। তাঁরা শুধু চিকিৎসার ব্যাপারটাই দেখবেন। কে আসল বাবা তা ঠিক করুক পুলিশ।
হর্ষ এ দিন টেলিফোনে বললেন, "ও আমার ফোন ধরছে না। দীপঙ্কর আমায় হুমকি দিচ্ছে। বলছে, ওকে ডিভোর্স দিতে। কেন দেব আমি ডিভোর্স? আমি ওকে বিয়ে করেছি, আমি ওর বাচ্চার বাবা, আমি দায়িত্ব নিতে চাই, আমাদের সন্তানকে বড় করতে চাই। পুলিশকেও তো ও তা-ই বলেছে। আমায় মঙ্গলবার ফোন করে ও নিজে কথা বলেছে, আমরা বেবির নাম কী রাখব, তাই নিয়েও কথা বলেছি। ওর কথা শুনেই আমি টাকা নিয়ে হাসপাতালে যাই বুধবার ওকে রিলিজ় করতে। কিন্তু কী করে বুঝব, ও অন্য প্ল্যান করেছে!"
হর্ষ জানিয়েছেন, ১৫ মার্চ তাঁদের বিয়ের কিছু দিন পরেই তরুণী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বলেন, মায়ের কাছে থাকবেন। স্ত্রীয়ের শরীরের অবস্থার কথা ভেবে বাধা দেননি হর্ষ। এমনকী তরুণীর মায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনেও কথাও হয়েছে একাধিক বার। কিন্তু কয়েক মাস আগে হর্ষ জানতে পারেন, তরুণী তাঁর মায়ের কাছে নেই, আছেন দীপঙ্কর পালের সঙ্গে, পাটুলিতে। কিন্তু তরুণী কিছুতেই সত্যি কথা বলেননি বলে দাবি হর্ষের। তিনি কখনও বলেন মুম্বইয়ে আছেন, কখনও বলেন মায়ের কাছে, কখনও আবার বলেন, জানাবেন না কোথায় আছেন। এমনকী কোন চিকিৎসকের আন্ডারে ভর্তি রয়েছেন, সে বিষয়েও বারবার নানা রকম নাম বলেছেন বলে হর্ষের দাবি।
হর্ষ জানান, তাঁর সন্দেহ, দীপঙ্করের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তরুণীর। তাই অস্বীকার করছেন হর্ষকে। এবং পিতৃত্ব নিয়ে নানা রকম দ্বন্দ্ব তৈরি করছেন। হর্ষর দাবি, তিনি যাতে হাসপাতালের টাকা মেটান বাবা হিসেবে, সেই জন্যই পুলিশের কাছে তাঁকে বাচ্চার বাবা বলে স্বীকার করেছেন তরুণী। এমনকী তাঁকেও ফোন করে বলেছেন বাবা হিসেবে এসে তাঁকে নিয়ে যেতে।
এর মাঝে আবার আরও এক সমস্যা তৈরি করেছেন, প্রদীপ রায়। হর্ষ এবং দীপঙ্করের পাশাপাশি তিনিও হাসপাতালে এসে দাবি করেছেন, বাচ্চার বাবা তিনি। এই প্রদীপ রায় কে, তিনি কোথা থেকে এলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন হর্ষ। হর্ষর ধারণা, এখন দীপঙ্কর পালের সঙ্গেই আছেন তরুণী। দ্য ওয়ালের তরফে দীপঙ্কর পালকে ফোনও করা হয়, ফোন কেটে দেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, এর পরে যদি হর্ষ আবার কোনও অভিযোগ দায়ের করেন বা মামলা রুজু করেন, তবেই তাঁরা আইন মোতাবেক তদন্ত করবেন ফের। হর্ষ জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই মনস্থির করেননি। তিনি এখনও অন্ধকারে।
হর্ষ বলেন, "এ সবের মাঝখানে পড়ে ভুগছে আমাদের বাচ্চাটা। ও তো কোনও দোষ করেনি। ওর ভবিষ্যৎটা তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি এমনটা চাই না।"