শুভেন্দুর গড় নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে জয়ের পর সবুজ আবিরে মাতল তৃণমূল। সেবাশ্রয় কর্মসূচির প্রভাবেই পর পর জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে নেতা-কর্মীদের।

নন্দীগ্রামের ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 25 January 2026 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গড় নন্দীগ্রাম (Nandigram) ফের উত্তাল। সমবায় নির্বাচনে ফল ঘোষণার আগেই তৈরি হয়েছিল সন্ত্রাসের বাতাবরণ, অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress)। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের (Nandigram-II Block) রানিচক (Ranichak) সমবায় সমিতির নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে জয় পেয়েছে শাসকদল। বিজেপি (BJP) আটকে গিয়েছে ১৮ আসনে। সবুজ আবির উড়তেই পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। স্থানীয় সূত্রের খবর, ১২ জন জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামাতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
রানিচক সমবায় সমিতিতে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৪০ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৮০ জন প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী দিতে পারে ৪০টি আসনে। অন্যদিকে, তৃণমূল পাঁচটি আসনে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত করে নেয়। শনিবার রাত থেকেই নির্বাচন ঘিরে টানটান উত্তেজনা ছিল এলাকায়। অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস তৈরি করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তৃণমূলের কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় গভীর রাতে। ওই ঘটনায় অন্তত আট জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
তৃণমূলের অভিযোগ, নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের (Nandigram-I Block) মেঘনাথ পাল (Meghnath Pal) ও অশোক করণ (Ashok Karan)-এর নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সমর্থিত চার জন প্রার্থীকে ঘরের ভিতর আটকে রাখার অভিযোগও ওঠে। তবু সমস্ত বাধা পেরিয়ে ভোটে অংশ নেন সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের দাবি, ২০২১ ও ২০২৪ সালের মতোই ভোট করাতে চেয়েছিল বিজেপি, কিন্তু এবার নন্দীগ্রামের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রবিবার বেলার দিকে ফল ঘোষণা হতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। একদিকে ‘জয় বাংলা’ (Joy Bangla), অন্যদিকে ‘জয় শ্রী রাম’ (Jai Shri Ram) পাল্টা স্লোগানে মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। যদিও আগে থেকেই মোতায়েন থাকা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফলাফলে দেখা যায়, ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টি পেয়েছে তৃণমূল, বিজেপি পেয়েছে ১৮টি। উল্লেখযোগ্যভাবে, তৃণমূল মাত্র তিনটি আসনে পরাজিত হয়েছে, তার মধ্যেও এক-দুটো ভোটের ব্যবধানে হার হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা। সবুজ আবিরে ঢেকে যায় এলাকা।
এই জয়কে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তমলুক সাংগঠনিক জেলার (Tamluk Organisational District) সভাপতি সুজিত রায় (Sujit Roy) বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের উপর আস্থা রেখেছেন। এই নির্বাচন প্রমাণ করে দিল, ২০২৬-এ নন্দীগ্রামে পরিবর্তন আসছে।”
ভোটের দিন নিজে নন্দীগ্রামে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবু বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে নন্দীগ্রামের মানুষ—এমনটাই দাবি সবুজ শিবিরের। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ (Sebashray) কর্মসূচি যে সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে, এই সমবায় নির্বাচনের ফল তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বলে মত তৃণমূল নেতাদের।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহ আগেই নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের আমদাবাদ (Amdabad) সমবায় সমিতির নির্বাচনে ১২-০ ব্যবধানে বিজেপিকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল শাসক শিবির। শুধু নন্দীগ্রাম নয়, ভগবানপুর ১ ব্লকের (Bhagabanpur-I Block) কাজলাগড় বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী প্রাথমিক বহুমুখী মহিলা সংঘ সমবায় সমিতিতেও বড় জয় পেয়েছে শাসকদল। বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) কয়েক মাস আগে এই ফলাফল যে রাজনৈতিকভাবে বড় বার্তা দিচ্ছে, তা মানছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।